নিসর্গ নির্যাস: জাতীয় কংগ্রেসের ভাঙনের পর জন্ম নেয় বাংলা কংগ্রেস। অজয় মুখোপাধ্যায় ও নলিনাক্ষ সান্যাল প্রতিষ্ঠাতা। সময়টা ১৯৬০। সিপিআইএমের সহযোগিতায় পরপর দু’বার সরকার গঠন করে বাংলা কংগ্রেস। যুক্তফ্রন্ট সরকার নামেই পরিচিত‌। পরে সিপিআইএম ও বাংলা কংগ্রেসের মতবিরোধের ফলে ১৯৭০ সালে ভেঙে যায় সরকার। ১৯৭৭ সালে অবলুপ্ত হয়ে যায় বাংলা কংগ্রেস দলটি। বহু নেতৃত্ব, কর্মী, সদস্য ফের নাম লেখান জাতীয় কংগ্রেসে।

রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মতানৈক্যের ফলে কংগ্রেস থেকে বহিস্কৃত হন প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে নতুন দল গঠন করেন প্রণব। ১৯৮৯ সালে আবার কংগ্রেসে যোগ দেন প্রণব। শুধু তাই নয় দলের বেশিরভাগ নেতৃত্ব, কর্মী, সদস্য আবার জাতীয় কংগ্রেসের ছায়ার তলায় আসেন।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল গড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দল থেকে বেরিয়ে বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল এখন পদ্ম শিবিরে। জোড়াফুল কোর কমিটির অন্যতম নেতা শুভেন্দুর হাতে পতাকার রং বদলানো সময়ের অপেক্ষা। বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি, শীলভদ্র। ইতিমধ্যেই বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন মিহির গোস্বামী।

কার ছেড়ে কার নাম? এক এক করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন বহু তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব-সদস্য-কর্মী। মমতা ঘনিষ্ঠ বলে বিশেষ পরিচিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এককালের এসপি ভারতী ঘোষ। তিনিও এখন বিজেপি বিজেপি শিবিরে। সংগঠনের রাজ্য সহ-সভাপতি। দলত্যাগীদের মুখ থেকে উঠে আসছে মূলত দুটি অভিযোগ, প্রথমত: পরিবার তান্ত্রিক দল তৈরি হয়েছে তৃণমূল। দ্বিতীয়ত: প্রতিহিংসাপরায়ণ।

বিরোধীদের বক্তব্য, দল ভাঙানো, মিথ্যে কেস দেওয়া, সমালোচনা সহ্য করতে না পারা, পরিবার তন্ত্র, প্রতিহিংসাপরায়ণ, সবই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। এসবই তৃণমূলের পতনের অন্যতম কারণ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, শুভেন্দু বিজেপি শিবিরে নাম লেখালে এবং তাঁর সঙ্গে হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করলে নির্বাচনের আগেই পতন হবে তৃণমূল সরকারের। তাই যদি হয় তবে দলের অবলুপ্তি খুব একটা ভুল বলা যায় না। কারণ, তৃণমূলের প্রথম সারির বহু শরিক এখন পদ্ম শিবিরে।

হাসছে কংগ্রেস, ক্ষমতার বিপুল আসন ধরে রাখতে না পারলেও টিমটিম করে বলছে, কংগ্রেস ছাড়লেই ভ্যানিশ! নতুন দল টিকবে না। হয় বিলীন নচেত আবার যোগদান করতে হবে জাতীয় কংগ্রেসে।

তবে ব্যতিক্রম আছে। তা সম্ভব হয়েছিল হয়তো নেতাজি ছিলেন বলেই। গান্ধীজির সঙ্গে মতানৈক্যের জন্য ১৯৩৯ সালের ২৯ এপ্রিল জাতীয় কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ৩ মে গঠন করেন ফরওয়ার্ড ব্লক। আজও টিকে আছে সেই দল। তাঁর আজাদ হিন্দ সরকার উড়িয়েছে স্বাধীন ভারতের পতাকা। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, মনিপুর-নাগাল্যাণ্ডে রাজ করেছে এই সরকার। স্বপ্ন দেখেছিলেন অখণ্ড ভারতের। নেতাজি একজনই। বাকিরা কংগ্রেস ছেড়ে গতি করতে পারলেন কই? অবশ্য নেতাজিও… কষ্ট হয়…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here