Home Featured দিল্লি দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারীরা অভিজাত এলাকায় বসে টিভিতে সংঘর্ষ দেখছিল, অভিযোগ পুলিশের

দিল্লি দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারীরা অভিজাত এলাকায় বসে টিভিতে সংঘর্ষ দেখছিল, অভিযোগ পুলিশের

0
দিল্লি দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারীরা অভিজাত এলাকায় বসে টিভিতে সংঘর্ষ দেখছিল, অভিযোগ পুলিশের
Parul

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দিল্লি দাঙ্গার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা করেই উত্তর পূর্ব দিল্লিকে বেছে নিয়েছিল দাঙ্গাস্থল হিসেবে। আদালতে পেশ করা চার্জ শিটে এরকমই জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দক্ষিণ পূর্ব দিল্লির থেকে  এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জনবিন্যাসের ধরন একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত ও হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার অনুকুল বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে চার্জ শিটে। যারা দাঙ্গার মাথা তারা নিরাপদে দক্ষিণ পূর্ব দিল্লির অভিজাত অঞ্চলে বসে টিভি’র পর্দায় চোখ রেখে বসেছিল। আর দাঙ্গার আগুনে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ পুড়ছিল বলে পুলিশ তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর পেশ করা চার্জ শিটে জানানো হয়েছে, প্রতিবাদ স্থল হিসেবে যে অঞ্চলটি বাছা হয়েছিল সেই অঞ্চলের মানুষ যে এই কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছিল সেটার স্বপক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে। মুসলিম প্রধান অঞ্চলকে ধর্না মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চিন্তা উদ্যোক্তাদের প্রথম থেকেই কাজ করছিল বলে পুলিশের অভিমত।

দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু মানুষ গ্রেফতার হওয়ার পর ষড়যন্ত্র কিছুটা ধাক্কা খেলেও বিষয়টি আদৌ শেষ হয়ে যায়নি বা ষড়যন্ত্রটি বাতিলও করে দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জ শিটে। দাঙ্গাস্থলে সশরীরে না উপস্থিত হয়ে দিল্লির অভিজাত এলাকায় থেকে বা বাইরের রাজ্য থেকে যোগাযোগ করে কলকাঠি নাড়িয়েছে দাঙ্গার চাঁইরা এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। সন্দেহের ঊর্ধে থাকার জন্যই তারা এই পথ অবলম্বন করেছেন বলে অভিমত পুলিশের।

চার্জ শিটে বলা হয়েছে ২০১৯ এর ডিসেম্বর মাসের ‘হটস্পট’গুলি বিভিন্ন তীব্রতায় ২০২০’র ফেব্রুয়ারিতে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পদ্ধতিগুলিও যেমন অবরোধ, উত্তেজক বক্তৃতা ও হিংসা সবই করা হয়েছে প্রথাগত পদ্ধতিতে। যারা ফেব্রুয়ারির দাঙ্গায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল তাদের  ২০১৯ এর ডিসেম্বরেও দেখা গিয়েছিল। আক্রমণের প্রাথমিক লক্ষ্যস্থলও ছিল এক, পুলিশ থেকে শুরু করে অমুসলমান নাগরিক।

২০১৯ এর ঘটনার কেন্দ্রে জামিয়া ও শাহিনবাগ থাকায় ২০২০’র দাঙ্গায় এই দুটি অঞ্চলকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও দু’ক্ষেত্রেই মহিলাদের সামনের সারিতে রাখার পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। ২০১৯ এর ডিসেম্বর থেকে মূল ষড়যন্ত্রকারীরা শিক্ষা নিয়ে ২০২০’র ফেব্রুযারির রণ কৌশল ঠিক করা হয়েছিল। দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু আইনের চোখে নয় নৈতিকতার দিক থেকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের চার্জ শিটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here