ডেস্ক: ধর্মান্তকরণ এবং নিজের পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করাটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে ৷ এ ব্যাপারে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা থাকতে পারে না৷ বহু আলোচিত হাদিয়া মামলার রায় দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাদিয়া মামলার ৬৮ পাতার রায়ে এই মত জানিয়েছে৷ গত মাসে নারী দিবসে ২০১৭ সালের মে মাসে সাফিন জাহানকে হাদিয়ার বিয়ে খারিজ নিয়ে কেরল হাইকোর্টের প্রদত্ত রায় নাকচ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত৷

হাদিয়ার মামলার রায়কে তাতপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে কারণ হাদিয়া-সাফিনের বিয়ে নিয়ে  রাজনৈতিক আলোড়ন শুরু হয়৷ এই বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবেই চিহ্নিত করে তুমুল বিতর্ক বাঁধে৷ সেই বিতর্কে জল ঢেলে দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কোনও পুরুষ বা মহিলার কাছে বিশ্বাসের স্বাধীনতা আবশ্যক৷ কোন ধর্মকে তিনি গ্রহণ করবেন, তা পুরোপুরি তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর নির্ভরশীল৷

তবে পাশাপাশি পৃথক মতামতে বিচারপতি চন্দ্রচূড় লিখেছেন, বিশ্বাস, আস্থা জিনিসটি সাংবিধানিক স্বাধীনতার একেবারে মূলে প্রোথিত রয়েছে৷ যাঁরা বিশ্বাস করেন কিংবা বিশ্বাস করেন না, তাদের জন্যই সংবিধান টিকে আছে৷ ব্যক্তিগত জীবনে হাইকোর্টের সীমা সম্পর্কে চন্দ্রচূড়ের মত, ওই এক্তিয়ারের বিষয়টি কারো বিবাহিত জীবনে প্রভাব ফেলা বাঞ্ছনীয় নয়৷ এ ব্যাপারে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে যাঁরা বিয়ে করবেন, তাঁদের ওপরই৷ এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে থাকে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here