নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভালো খাবার মিলছে না সরকারি হাসপাতালে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীদের তরফে সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ভুরি ভুরি। সেই অভিযোগে জেরে এবার পদক্ষেপ নিল মমতা সরকার। সরকারি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে রাজ্য সরকার এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে বলে জানা গেল। কোভিড রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা করল স্বাস্থ্য দপ্তর। এই সিদ্ধান্তের কথা স্বাস্থ্য দপ্তর এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে।

ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আমিষ, নিরামিষভোজী করোনা রোগীদের কোন কোন সময়ে কী কী পদ কতটা পরিমাণে দিতে হবে তার বিস্তারিত মেনু ঠিক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। খাবারের গুণমান আরও ভাল দেওয়ার পাশাপাশি পরিমাণও বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১০ জুন এক নির্দেশিকায় রোগীর খাবার পিছু ১৫০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবার আরও ২৫ টাকা বাড়িয়ে রোগী পিছু ১৭৫ টাকা ধার্য করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। খাবারের পরিমাণও আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। রোগের বিরুদ্ধে লড়তে ওষুধের পাশাপাশি করোনা রোগীদের প্রয়োজন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।

এমআর বাঙুর–‌সহ আরও কয়েকটি কোভিড হাসপাতালে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী চা, বিস্কুট দেওয়া হত। কিন্তু সব কোভিড হাসপাতালে দেওয়া হত না। সেই জন্য সব কোভিড হাসপাতালে যাতে রোগীদের দেওয়া হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিদের্শিকায় উল্লেখ রয়েছে— আমিষভোজী রোগীদের জন্য সকালে ও বিকেলে দিতে চা ও বিস্কুট ২ পিস করে। প্রাতরাশ—চার পিস পাউরুটি, ডিম সিদ্ধ ও কলা ১টা করে ও গরম দুধ ২৫০ মিলিলিটার। দুপুরে—ভাল চালের ভাত ১৫০ গ্রাম, ডাল ৫০ গ্রাম, মাছ অথবা মুরগির মাংস ৮০–৯০ গ্রাম, মরশুমি সবজি ১০০ গ্রাম, দই ১০০ গ্রাম। রাতে— ভাত অথবা রুটি ১০০ গ্রাম, ডাল ৫০ গ্রাম, মাছ অথবা মুরগির মাংস ১০০ গ্রাম, মরশুমি সবজি ৭৫ গ্রাম। নিরামিষভোজী রোগীদের জন্যও সকালে ও বিকেলে চা ও দুটো করে বিস্কুট। প্রাতরাশে শুধু ডিম সিদ্ধ বাদ। দুপুরের আহারে শুধু মাছ, মাংসের বদলে থাকছে মাশরুম অথবা পনির অথবা সোয়াবিন ৮০ গ্রাম করে। রাতেও মাছ অথবা মাংসের জায়গায় পনির বা সোয়াবিন অথবা রাজমা ৮০ গ্রাম করে দিতে হবে। সকালে দুপুরে রাতে আমিষভোজীদের মতো অন্য সব পদ একই পরিমাণে রাখা হয়েছে মেনুতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here