মহানগর ওয়েবডেস্ক: মহামারীর কোপে দুর্দশা নেমে এসেছে ভারতের কয়েক কোটি মানুষের উপর। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো ভুগছেন খাদ্য নিরাপত্তায়। এক বেলার খাবার খেলে পরের বেলা না খেয়ে চিন্তা করছেন পরের দিন কী খাবেন এই নিয়ে। এরকম একটা অবস্থায় আর্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় মনের পরিচয় দিলেন কর্ণাটকের দুই ভাই। নিজেদের হাতের পাঁচ জমি বেচে দিয়েই ক্ষুধার্তদের জন্য খাদ্য কিনলেন তারা।

তাজাম্মুল পাশা ও মাজাম্মিল পাশা, দুই ভাই ব্যবসায়ী। কর্ণাটকের কোলার জেলার বাসিন্দা। লকডাউনের সময় ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দিতে নিজেদের জমি ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন তারা। কোলার জেলা থেকে শয়ে শয়ে পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করেন দেশের নানা প্রান্তে। এই অবস্থায় তারা আটকে পড়েছেন নানা রাজ্যে। তবে তাদের পরিবার ও একই ধরনের কয়েকশো গরিব পরিবারের যাতে কষ্ট না হয় সেই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তাজাম্মুল ও মাজাম্মিল। জমি বিক্রির টাকা চাল ডাল সহ অন্যান্য জরুরি সামগ্রী কিনেছেন তিনি। এরপর বাড়ির কাছে একটি তাঁবু খাটিয়ে নিজেদের কমিউনিটি কিচেন শুরু করেছেন তারা। সেখানে দু’বেলা এসে খেয়ে যাচ্ছেন তারা যারা পেটে ক্ষিদে নিয়ে ঘুরে বেরোন।

কিন্তু লকডাউনের সময় ব্যবসা ছেড়ে কেন এই মহৎ কাজ? পাশা ভাইদের বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বাবা-মা খুব তাড়াতাড়িই মারা গিয়েছিলেন। আমাদের বয়স যখন ৩ ও ৫ বছর তখনই। এরপর আমরা আমাদের দিদার বাড়িতে চলে আসি। সেখানে হিন্দু, শিখ, মুসলিম সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রদায় নির্বিশেষে তাদের বেঁচে-বরতে থাকতে সাহায্য করেন।’ সমাজের আর্ত মানুষদের পেট ভরে খাইয়ে সেটারই সামান্য প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে চাইছেন দুই ভাই।

কলা ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পাশা ভাইরা আরও বলছেন, ‘আমরা দারিদ্রের মধ্যেই বড় হয়েছিলাম। বেঁচে থাকতে পেরেছিলাম সকল ধর্মের মানুষের থেক সাহায্য পেয়েই। তাই এখন এদের পাশে না দাঁড়িয়ে পারলাম না।’ গরিব মানুষদের পেট ভরে খাবার দেওয়ার পাশাপাশি সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারও তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ওই দুই ভাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here