kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেক্স: সারা পৃথিবী জুড়ে করোনাভাইরাস ত্রাস সৃষ্টি করলেও এই অতিমারী ভারতের সামনে নিয়ে এসেছে এক সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করেন নিতিন গড়কড়ী। কোভিড–১৯ ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার জন্য চিন দায়ী এমনই সিদ্ধান্ত আমেরিকা সহ বহু দেশের। এবং চিনের এই ‘অপরাধ’ প্রমাণিত হলে তাদের মূল্য দিতে হবে বলে দু’দিন আগেই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষেত্রে চিনকে একঘরে বা বয়কটের একটা সম্ভাবনা উত্তরোত্তর প্রবল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিই ভারতের সামনে খুলে দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্যে সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই অভিমত পেশ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

লকডাউনের কারণে বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং ছোট ব্যবসার (এমএসএমই) ক্ষেত্রটিকে পুনরজ্জীবিত করতে সরকার কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে গড়কড়ী চিন সম্পর্কে মন্তব্যটি করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ভারতীয় সংস্থা এইচডিএফসি’র শেয়ার কেনার পরই ভারতের তরফে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আইনের সংশোধন ঘটানো হয়। ভারতের এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)–র আদর্শ মুক্ত ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নীতির বিরোধী বলে চিনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তার দু’দিন পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

”পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ এখন এক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। (কিন্তু) এই অবস্থায় কেউই চিনের সঙ্গে বাণিজ্য চালাতে আগ্রহী নয়, যদিও অর্থনৈতিক ভাবে সে দেশ বিপুল শক্তিধর। সংকটের মধ্যেও এই অবস্থাটি আমাদের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ। এটা আমাদের কাছে একটা সুযোগ” বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় জাতীয় সড়ক ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী। এই সুযোগে প্রধানমন্ত্রীর ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতিকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন তা পূরণ হতে পারে বলে জানিয়ে গড়কড়ী বলেন, ”আমরা এই বিষয়টি দেখার জন্য একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছি যাতে নতুন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের রূপান্তর ঘটিয়ে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ করে তোলার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা যায়।”

করোনাভাইরাস অতিমারী চিন ও ভারত এই দু’দেশের অর্থ ব্যবস্থাকেই নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের পূর্বাভাস অনুযায়ী চিনের আর্থিক বৃদ্ধি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবথেকে কম হতে চলেছে ২০২০ সালে। অন্যদিকে মন্দার আবহে ইতিমধ্যেই ঝিমিয়ে পড়া ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিও তলানিতে পৌঁছবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here