news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২০১৩ সালে চিনের উহান ল্যাবরেটরিতে কোভিড–১৯–এর খুব কাছাকাছি জীবাণু পাঠানো হয়েছিল। জীবাণুটি সংগ্রহ করা হয়েছিল একটি খনি থেকে যার আশেপাশে ছিল অজস্র বাদুরের বাসা। সানডে টাইমস–এ প্রকাশিত রিপোর্টে সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস অতিমারীর উৎস নিয়ে আবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল।

দক্ষিণ–পশ্চিম চিনের এক পরিত্যক্ত তামার খনির আশেপাশে ছিল অজস্র বাদুরের বাসা। সেখানে যে ছ’জন কর্মী স্থানটিকে পরিষ্কার করতে গিয়ে বাদুরের মল পরিষ্কার করেছিল তাদের মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়া হয় বলে সানডে টাইমস সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই ছ’জনের মধ্যে তিন জনের সেই নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হয়। মনে করা হচ্ছে সেই তিনজনই সম্ভবত করোনাভাইরাসের প্রথম বলি যাদের দেহে ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছিল বাদুরের মাধ্যমে। বর্তমানে কর্মরত এক চিকিৎসক সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে বলে দাবি সংবাদপত্রের। সেই চিকিৎসকের সুপারভাইসার ওই ছ’জনের চিকিৎসা করেছিলেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে সার্স নিয়ে গবেষণারত বিশেষজ্ঞ শি ঝেংলি ইউনান প্রদেশের সেই একই খনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। বাদুর অধ্যুষিত গুহায় অভিযান চালানোর জন্য শি ‘ব্যাট ওম্যান’ নামে পরিচিত। এই গবেষকই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর গবেষণা পত্রে উল্লেখ করেন ২০১৩ সালে ইউনানের খনিতে পাওয়া জীবাণুর সঙ্গে কোভিড–১৯ জীবাণুর ৯৬.২% সাদৃশ্য রয়েছে। সানডে টাইমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ”প্রায় নিশ্চিত” করে বলা যায় পরিত্যক্ত খনিতে পাওয়া ভাইরাসই করোনাভাইরাস।

এই প্রসঙ্গে সংবাদপত্রের মাধ্যমে উহান ল্যাবরেটরির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে। ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর গত মে মাসে জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের (RaTG13 ভাইরাস) কোনও জীবন্ত নমুনা বা স্যাম্পেল ল্যাবরেটরিতে ছিল না ফলে ল্যাবরেটরি থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মে মাসে জানিয়েছিলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে করোনাভাইরাসের জীবাণু ছড়ানোর প্রমাণ তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কোনও মিল ছিল না। এবার সানডে টাইমস–এর রিপোর্টের পর কোভিড–১৯ ভাইরাসের উৎস নিয়ে আবারও বিতর্ক দানা বাঁধবে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here