kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারুইপুর: বাগানবাড়িতে রহস্যজনকভাবে খুন হলেন এক দম্পতি। বাড়ির বাথরুমের ভিতর থেকে তাঁদের সুটকেস-বন্দি দেহ উদ্ধার হল। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের খেয়াদহ তিউড়িয়া এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম প্রদীপ বিশ্বাস ও আলপনা বিশ্বাস। এঁদের যে খুন করা হয়েছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। তবে কে বা কারা, কেন এঁদের খুন করেছে তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্রপুরের খেয়াদহ তিউড়িয়া এলাকার ওই বাগানবাড়িটির মালিক দীপঙ্কর দে। তিনি মূলত কলকাতার কসবার বাসিন্দা। প্রদীপ বিশ্বাস ও আলপনা বিশ্বাসই দীপঙ্করবাবুর বাগানবাড়িটি দেখাশোনা করতেন। শুধু দেখাশোনা নয়, বিগত ২০ বছর ধরে তাঁরা ওই বাগানবাড়িতেই থাকতেন। রবিবার রাতে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। প্রদীপবাবুর ভাই জয় বিশ্বাস জানান, সোমবার সকাল থেকে তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহবশতই তিনি মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্রপুরের ওই বাগানবাড়িতে যান। সেখানে গিয়েই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! প্রদীপবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল। বাড়ির ভিতর ঢুকতেই তিনি দেখেন, মেঝেতে রক্ত পড়ে রয়েছে। ডাকাডাকি করেও দাদা-বৌদির সাড়া মেলেনি। এরপর দেখেন, বাথরুমের দরজা খোলা এবং সেখানে দুটি ট্রলি ব্যাগ পড়ে রয়েছে। বিপদ আশঙ্কা করে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সেখানকার অঞ্চল প্রধানকে পুরো বিষয়টি জানান। তারপর তাঁর সঙ্গেই নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে গোটা ঘটনাটি জানান জয়বাবু। এরপর নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রলি দুটি থেকে প্রদীপ বিশ্বাস ও আলপনা বিশ্বাসের দেহ উদ্ধার করে।

নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ আধিকারিক জানান, ওই দম্পতিকে যে খুন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে খুন করার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অপরাধীরা ওই দম্পতির পূর্ব পরিচিত এবং সোমবার রাতেই তাঁদের খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। কেননা প্রদীপ বিশ্বাসের ভায়ের বয়ান অনুযায়ী, ঘরের দরজা বন্ধ ছিল না। জোর করে দরজা খোলার কোনও নমুনাও মেলেনি। তাই ওই দম্পতি অপরাধীকে আগে থেকেই চিনতেন এবং তাঁরাই তাকে দেখে দরজা খুলে দিয়েছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ। এলাকাবাসীও জানিয়েছেন, রবিবার রাতে চার-পাঁচজন ওই দম্পতির সঙ্গে দেখা করতে বাগানবাড়িতে এসেছিল। তারা একসঙ্গে গল্পগুজবও করছিল। এছাড়া ট্রলি থেকে চুঁইয়ে পড়া রক্ত দেখে পুলিশ নিশ্চিত যে, বিগত ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা খুন হয়েছেন। তবে রবিবার রাতে ওই বাগানবাড়িতে কারা এসেছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। এলাকায় সিসিটিভি না থাকায় এই খুনের কিনারা পেতে পুলিশকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে। পুলিশও ওই দম্পতির আত্মীয় ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে। বাড়ির মালিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। শীঘ্রই অপরাধীরা ধরা পড়বে বলে আশাবাদী নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here