নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: পুজো বা বিভিন্ন আনন্দঘন মুহূর্ত এলে প্রশাসন থেকে অনেক স্বেচ্ছাসেবী মানুষ অসহায় বৃদ্ধবৃদ্ধা ও শিশুদের নিয়ে সেই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার জন্য তৎপর হন। বিশেষ করে দুর্গা পুজোর মত উৎসব এলে সেই উদ্যোগটা বেশি দেখা যায়। এমনই এক উদ্যোগে ব্যতিক্রমীভাবে শামিল হন মেদিনীপুর শহরের এক দম্পতি। মেদিনীপুর শহরের ভবঘুরে আবাসনে থাকা ৩৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন চিকিৎসারত লোকদের পুজো মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখালেন। তারপর তাদের বসিয়ে ভুরিভোজ করিয়ে ফের পৌঁছে দিলেন নিজেদের বাসস্থানে। জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি নিয়ে একাধিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেই এই আয়োজন সম্পন্ন করার পর ওই দম্পতির বক্তব্য “নিজেরা পুজো ঘুরে যে আনন্দ না পেতাম এদের একটু আনন্দ দিয়ে তার থেকে অনেক বেশি সুখ।”

মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রে মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠ সংলগ্ন এলাকায় একটি পুরনো ভবঘুরে আবাসন রয়েছে। যেখানে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিদের রেখে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়। বিভিন্ন উৎসবের মুহুর্তে সব জায়গাতেই কমবেশি উৎসবের ছোঁয়া থাকলেও এই স্থানে তেমনটা দেখা যায় না। উৎসবে শামিল করতে গেলে যদি কোনও বাধা-বিপত্তি বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের জন্য যতটুকুই হয় সেটি ওই আবাসনের ভেতরে চার দেওয়ালের মধ্যেই। সেই খামতিতে হাত লাগালেন মেদিনীপুর শহরের দম্পতি সঞ্জিবন দাস ও তার স্ত্রী ফুলটুসি দাস। দুর্গাপুজোর উৎসবে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সকাল থেকে ঘুরিয়ে দেখালেন বহু পুজো মণ্ডপ।এরপর বাড়িতে এনে বসে পেট পুরে খাইয়ে পৌঁছে দিলেন তাদের আবাসনে।

মেদিনীপুর শহরের মির্জা বাজার এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীবন দাস, মেদিনীপুরের বিধায়ক মৃগেন মাইতির ছায়াসঙ্গী বলাই ভাল। সঞ্জীবন ও তার স্ত্রী ফুলটুসি দাস গত পাঁচ বছর ধরে এই ধরণের উদ্যোগ নিয়ে চলেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাতটার সময় দেখা গেল বেশ কয়েকটি চার চাকার গাড়িতে করে নতুন একই রঙের পায়জামা পাঞ্জাবী পরা লোকজন নিয়ে সারি দিয়ে মণ্ডপের দিকে চলেছেন কয়েকজন যুবক। লাইন দিয়ে পায়জামা পাঞ্জাবী পরা লোকগুলো সুশৃঙ্খলভাবে মন্ডপে ঢুকে এক এক করে দেবীকে প্রণাম সেরে নিজেরাই বাধ্য ছেলের মতো গাড়িতে উঠে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী মন্ডপের জন্য ৷ সকাল সাতটা থেকে ১১ টা পর্যান্ত মেদিনীপুর শহরে বহু মন্ডপ ঘুরে দেখে সঞ্জীবনের বাড়িতে বসে খাওয়ানোর ব্যাবস্থা হয় ৷ তাদের পেট পুরিয়ে খাইয়ে সেই দম্পতি গাড়িতে করে ফের ফিরিয়ে দিল ভবঘুরে আবাসনে ৷ আবাসনের ফেরার মুখে ওই দম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন অসহায় ওই ব্যাক্তিরা ৷ এদিন ফুলটুসি দাস বলেন “ নিজেরা সেই সুখ পাইনা, যেটা ওদের নিয়ে ঘুরে উপভোগ করি ৷ প্রায় পরিবার ছাড়া এই লোকগুলকে একটু হাসি দিতে পারে মন ভাল লাগে ৷” একইভাবে সঞ্জীবন জানায় “ এই টুকু সুখ পেতে গত পাঁচ বছর ধরে জেলা প্রাশাসনের কাছে অনুমতি নিয়ে অনেক নিরাপত্তা ও আয়োজন থাকে ৷ তবে আজও কোনও সমস্যা হয়নি ৷ ভালো লাগে ৷”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here