kolkata bengali news

বিশেষ প্রতিবেদক, বনগাঁ: আলাপটা বছর ছয়েক আগে, একটা বিয়ে বাড়িতে। প্রথম দেখা, প্রথম কথা। প্রথম দর্শনেই হয়ত জন্ম ভালবাসার। তারপর আর পাঁচটা ক্ষেত্রে যা হয়, এখানেই তাই হল। বাড়িতে না জানিয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো। সকাল, বিকেল, রাতে লুকিয়েচুরিয়ে ফোন করা। সবই ছিল ওদের প্রেমের জগতে। সঙ্গে প্রেমিকের তরফে ছিল স্বপ্ন মাখা প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতিতেই ভেসে সম্পর্ক গড়িয়েছিল সহবাসে। এক আধ দিন নয়, একাধিকবার সহবাসে লিপ্ত হয়েছিল তারা। প্রেমিকা এরপর যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ঘর বাঁধার, ঠিক তখনই এসেছিল চূড়ান্ত আঘাত। প্রেমিক মুখ ঘুরিয়েছিল তার দিক থেকে। জানিয়েছিল বিয়ে সে করবে না। এই অপমান কিন্তু মুখ বুজে মেনে নেয়নি মেয়েটি। দিয়েছিল মামলা ঠুকে প্রেমিকের নামে। আর সেই মামলার জেরেই এবার কঠিন শাস্তির মুখে প্রেমিক বাবাজীবন।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানার ছেকাঠির বাসিন্দা রামপ্রসাদ মণ্ডল পেশায় দমকল কর্মী। ২০১৩ সালে রামপ্রসাদের সঙ্গে একটি বিয়েবাড়িতে পরিচয় হয় নৈহাটির বাসিন্দা দীপিকা দাস পোদ্দারের। পরবর্তিতে দু’জনে মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, তখন রামপ্রসাদ দীপিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিক সহবাসে বাধ্য করে। তাদের সেই সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পরে দীপিকার বাড়ি থেকে রামপ্রসাদের কাছে গিয়েছিল বিয়ের প্রস্তাব। কিন্তু সেই প্রস্তাব মেনে নেয়নি রামপ্রসাদের বাড়ির লোকেরা। এমনকি রামপ্রসাদ নিজেও দীপিকাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। তারপরই ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি রামপ্রসাদের বিরুদ্ধে দীপিকার পরিবার গাইঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

সেই অভিযোগের জেরে সেই বছরের ২৪শে এপ্রিল রামপ্রসাদ বনগাঁ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। তখন তাকে বিচারক জামিনে মুক্তি করে। পাঁচবছর মুক্ত থাকার পর সোমবার বনগাঁ আদালতের বিচারক বর্ষ বনসেল আগারবল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার বিচারক তার শাস্তি ঘোষণা করেন। প্রতারণা ও বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পর, বিয়ে না করা যে কার্যত ধর্ষণ হিসাবে বিবেচিত হয় আইনের চোখে তা এদিন জানিয়ে দেন বিচারক। এরপরই ঘোষণা করেন রামপ্রসাদের শাস্তি। দশ বছরের জেল সাজা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা। না দিতে পারলে আরও এক বছরের জেল। দীপিকার পরিবার এই রায়ের জন্য বিচারককে ধন্যবাদও জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here