মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারতে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে ব্রিটেন ও দুবাই থেকে আসা যাত্রীদের চিহ্নিত করা হয়েছে একটি আইআইটি গবেষণায়। আইআইটি মান্ডির এক বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় উঠে এসেছে এই কথা। ট্রাভেল মেডিসিনের জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, মূলত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের থেকেই ভারতের নানা রাজ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।

গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, তামিলনাড়ু, দিল্লি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষেত্রে সংক্রমিত মানুষজন খুব বেশি কাজ করেননি বাহক হিসেবে। কিন্তু গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, কেরল, জম্মু কাশ্মীর ও কর্নাটকের মতো রাজ্যে সংক্রমিতরা নিজেদের এলাকাতেও ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছেন।

আইআইটি মান্ডির সহাকারী অধ্যাপক সরিতা আজাদ এই নিয়ে বলেন, ‘আমরা কোভিড ১৯ ছড়ানোর গতিবিধি ট্র্যাক করেছিলাম। যেখানে দেখা গিয়েছেম আন্তর্জাতিক স্তর থেকে জাতীয় স্তরে তা ছড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকজন ‘সুপার স্প্রেডার’ বড় ভূমিকা নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে কোভিডের সংক্রমণ ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে কিনা তা দেখে নির্ধারণ করা হচ্ছিল। কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষরাই আক্রান্ত হচ্ছিলেন।’

এই তহ্য সংগ্রহ করতে গবেষকদের দল জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সংক্রমিত ব্যক্তিদের যাতায়াতের ইতিহাস ঘেঁটে দেখে। এবং ভাইরাস ছড়ানোর উপর ভিত্তি করে অতিমারির প্রথম পর্যায়ে একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। সেখানেই দেখা যায়, দুবাই (১৪৪) এবং ব্রিটেন (৬৪) থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমেই সর্বাধিক কোভিড ছড়িয়েছে ভারতে। যদিও চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, দুবাই থেকেই করোনা সবচেয়ে বেশি ভারতে ছড়ালেও বর্তমানে দুবাই ক্রমশ করোনা মুক্ত হওয়ার পথে। সেখানে জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে করোনার সঙ্গে লড়তে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে ভারতের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here