national news
Illustrative vial of coronavirus vaccine

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভ্যাকসিন চলে এলেও করোনাভাইরাস অতিমারীর সঙ্গে মানুষকে যুঝতে হবে আগামী বেশ কয়েক বছর। ওষুধ ও গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমনই সাবধানবাণী শুনিয়েছেন। ভ্যাকসিন কিছুটা সুরক্ষা দিলেও মাঝে মাঝেই এই ভাইরাস আক্রমণ চালাবে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষকে এই আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে যেমনভাবে ফ্লু সহ অন্যান্য জীবণুকে প্রতিহত করতে হয়।

‘’কী ভাবে কোভিড–১৯ বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করছে’’ শীর্ষক আলোচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, ‘’আমরা জানি খুব শিগ্গিরির মধ্যে এই ভাইরাস চলে যাবে না। এটা নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যখনই সুযোগ পাবে তখনই সংক্রমণ ছড়িয়ে দেবে।  আমাদের এর (কোভিড–১৯) সঙ্গেই বসবাস করতে হবে।‘’

মানুষের ক্ষেত্রে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ইতিহাস খুব উজ্জ্বল নয়। একমাত্র জল বসন্ত (স্মল পক্স) ছাড়া অন্য কোনও ভাইরাসকেই মানুষ নির্মূল করে উঠতে পারেনি। অন্য জানা ভাইরাসগুলিকে কিছুটা সামাল দিয়ে রেখেছে যারা যে কোনও সময়ই প্রবল ভাবে আক্রমণ চালাতে পারে। এই প্রসঙ্গে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নোভার্টিস–এর সিইও ব্যস নরসিমহন বলেন, ‘’ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের সাহায্যে আমরা একটা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছতে পারি যেখানে অতিমারীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এটুকু আশা করাটাই বাস্তবজনোচিত।‘’ করোনাভাইরাস নির্মূল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করেন নোভার্টিস–এর শীর্ষ আধিকারিক।

বৃহষ্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ইতিমধ্যেই সারা বিশ্ব জুড়ে ২৯টি বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন মানব দেহে ট্রায়ালের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে কোভিড–১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়েছে যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ লক্ষ ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষের। অকল্পনীয় দ্রুততায় ভ্যাকসিন চলে এলেও প্রাথমিক ভাবে সেটি দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এবং যারা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রয়েছেন তাদের। ফলে আগামী বছরের কোনও এক সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই ভ্যাকসিন পৌঁছবার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেরিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ প্রসঙ্গে নরসিমহন বলেন, ‘’যত অপেক্ষা করবেন ততই ভ্যাকসিন সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য জানতে পারবেন। সাধারণ মাত্রায় আস্থাশীল হয়ে বলা যায় আগামী বছরের শেষের দিকে যে ভ্যাকসিন পাওযা যাবে সেটি অনেকটাই নিরাপদ ও কার্যকরী হবে।‘’

ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র দুটি ভ্যাকসিন প্রস্তুতির প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীদের অভিমত, তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিপুল তথ্য যথাযথ পর্যালোচনা না করে সাত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বাজারে ছেড়ে দেওয়া একেবারেই সঠিক নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here