মহানগর ডেস্ক: দেশ জুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার রিভিউ মিটিংয়ে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টিকাকরণের দেরি হওয়ার নিয়ে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে ৪৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের মোট ৩১ শতাংশকে ভ্যাকসিনের একটি ডোজ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজ্যগুলি এই পরিস্থিতিতে যেন টিকাকরণের হার কোনভাবেই না কমায়। ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারত বিশ্বের কেন্দ্র হয়ে উঠলেও দেশের মোট জনসংখ্যার খুব অল্প সংখ্যক অংশ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। অনেকে রাজ্য অভিযোগ করেছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন মজুদ নেই।

১৮ বছর ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ মে থেকে। তবে সেই টিকাকরণ এখনো শুরু হয়নি। কারণ হিসেবে রাজ্যগুলি অভিযোগ করেছে, সরাসরি ভ্যাকসিন নির্মাতাদের কাছ থেকে তাদের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে চাপ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবারই পর্যালোচনা সভায় ১২ টি রাজ্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। যাদের দৈনিক সংক্রমনের সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যগুলিকে স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো আরও উন্নতি করতে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে যথাসম্ভব সাহায্য করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রথমে দেখা গিয়েছিল করেই ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ধীরে ধীরে কমে আসছিল। তবে বৃহস্পতিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের থেকে আরো বেশি সংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছেন এই মারণ ভাইরাসে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪ লক্ষ ১২ হাজার ২৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ডের দৈনিক সংক্রমণের হার অত্যন্ত বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন গত দুই সপ্তাহে সারা দেশে সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের কোভিড আক্রান্তদের ৪৬ শতাংশ এবং মৃতের ২৫ শতাংশ ভারতীয়। আমেরিকা, ব্রাজিলের দৈনিক সংক্রমনের সংখ্যাকে পার করে গিয়েছে ভারত। প্রতিদিন নতুন করে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকী আশঙ্কা করা হচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের। কারণ যে পরিমাণে সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে তৃতীয় ঢেউ আসতে বেশি সময় লাগবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here