news bengali kolkata

নিজস্ব প্রতিবেদক, হুগলি: নভেল করোনা ঠেকানোর উপায় বাতলে গোমূত্র পার্টির আয়োজন করেছিল হিন্দু মহাসভা। যা নিয়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। আবার স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়াই বাঁকুড়ায় শিবির করে করোনা প্রতিষেধক হিসেবে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ানোর খবরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়েই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই শিবির তুলে দেয়। এবার হুগলিতে রীতিমত স্টল সাজিয়ে বিক্রি হচ্ছে গোবর-গোমূত্র।

আবার একই কাণ্ড! করোনা ঠেকাতে আজব দাওয়াই। হুগলির ডানকুনিতে স্টল সাজিয়ে বিক্রি হচ্ছে গোবর-গোমূত্র। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন ফুচকা বা আলুকাবলির স্টল। কিন্তু এই দোকানে প্লাস্টিকে ভর্তি রয়েছে গোবর। চারধারে সাজানো রয়েছে জার, তাতে বিভিন্ন রকমের গোমূত্র। বাংলা, ইংরেজিতে লেখা করোনা মহৌষধি। ঝোলানো আছে প্রাইস ট্যাগও। গরুর মূত্রের আবার বিভিন্ন রকম! অবাক হওয়ার বাকি আছে আরও।

শেখ মাবুদ আলির স্টলে প্রাধান্য পাচ্ছে ‘গো-মাতা’ই। মেয়ে বাছুরের (কুমারী!) মূত্রের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি লিটার ৫০০ টাকা। গরুর মূত্র হলে দাম সামান্য কমে ৪০০ টাকা। ‘হাম্বা’ গরু মানে দেশি! বিদেশি জার্সি গরু মানে ‘খাটি’ নয়। তাই দাম লিটার প্রতি মাত্র ৩০০ টাকা। করোনা ঠেকাতে গোমূত্রের পাশাপাশি অব্যর্থ গোবরও, এমনই মত দোকানদারের! তবে এখানেও আছে আসল-ভেজাল তত্ত্ব। দেশি গরুর গোবর বিকোচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। বিদেশি হলে দাম কম মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। ভিড় জমেছে দেদার। চলছে দরদামও। তবে করোনা ত্রাতা দোকানদার সাফ জানিয়েছেন, খাঁটি দেশিতে ‘নো কম্প্রোমাইজ’। অবশ্য মিলছে ‘ট্রায়াল প্যাক’ও!

এই বিষয়ে মহানগরের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিজেপির নাম না করে তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার জঙ্গলের অনুকরণে এইসব করা হচ্ছে। ওরা এসব খাক।’ আর সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে কী না সেই উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভুল বোঝার তাঁরা বুঝবেন।’

ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, যে কোনও রোগ বা ভাইরাস ঠেকানোর জন্য কয়েক মাস বা বছর গবেষণা করে তবে তার প্রতিষেধক বাজারে আনা হয়। কারও অযৌক্তিক বক্তব্য বা প্রচার শুনে এই নিয়ে মাতামাতি করা মানে সমাজকে পিছিয়ে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ক্লোরোকুইন (ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়), রিটোন্যাভির ও লোপিন্যাভির (এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়), অফেল্টামিভির (সোয়াইন ফ্লু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) – এই চারটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। করোনা প্রতিষেধক কী না তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাক্তার বলেন, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রোগ সারানোর বা রোগ প্রতিরোধের কথা বলা মানে সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here