keishna rss

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বোঝা গেল কেন সংঘ সহ গেরুয়া শিবির দলিতদের এত অপছন্দ করে৷ কেনই বা দেশ জুডে় দলিত দলনে গেরুয়া শিবিরের নাম উঠে আসে৷ তা স্পষ্ট করে দিলেন সংঘর এক শীর্ষকর্তা৷ প্রাচীনকালে যারা গরুর মাংস খেত তাদের একঘরে করা হত৷ এমনটাই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ(আরএসএস)র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল৷ শুধু এটা বলেই থামেননি তিনি৷ তাঁর সাফ কথা, প্রাচীনকালের গোমাংসভক্ষণকারীদের তৎকালীন সমাজে এতটাই ঘৃণা করত যে সেইসময় তাদের দলিত পর্যন্ত বলত না৷ তাঁর কথায়, রামায়ন রচয়িতা বাল্মীকি নিজে শুদ্র ছিলেন৷ আসলে সেই সময় বহু মুনি ঋষি শুদ্র ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি৷ তাঁর আরও দাবি, প্রাচীণ ভারতের সাহিত্যে এই অস্পৃশ্য বা দলিত শব্দ ব্যবহার করা হত না। ব্রিটিশরা এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিল৷

গেরুয়া শিবিরের ধারণা দলিতরাও গোমাংস খায়৷ আর সেই ধারণা থেকেই দলিতদের ওপর গেরুয়া শিবর এত অত্যাচার করে৷ গোমাংস বিতর্ক বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গো মাংস নিয়ে গোটা দেশেই নানা কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গোমাংস ভক্ষণ এবং গোমাংস খাওয়ার অপরাধে একাধিক জায়গায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উত্তর প্রদেশে তো গোমাংস বিক্রি করাই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে গোটা দেশেই রাজনৈতিক চাপান উতর চলছে। আর তাতে সবচেয়ে বেশি উষ্কানি মূলক মন্তব্য করে এসেছে গেরুয়া শিবির‌।

আরএসএসের যুগ্ম সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল দাবি করেছেন, সংবিধানের প্রণেতা বাবসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর দলিত শব্দর জায়গায় তপশালি জাতি-উপজাতি কথাটি ব্যবহার করেছেন৷ যাতে সমাজের মধ্যে ভেদাভেদ প্রকোট হয় সেকারণেই এই শব্দের ব্যবহার শুরু করে ব্রিটিশরা এমনই দাবি করেছেন তিনি। রামায়ণ রচয়িতা ঋষি বাল্মিকীও এই শব্দের ব্যবহার করেননি। তিনি শূদ্র শব্দের ব্যবহার করেছিলেন। সেসময় অনেক ঋষিই শূদ্র ছিলেন বলে দাবি সংঘ নেতার যে অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে দলিত, শূদ্র, অস্পৃশ্য শব্দগুলি নিয়ে চর্চা করেছেন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেলও। তাঁর উপস্থিতিতেই এই বিতর্কিত মন্তব্যগুলি করেন সংঘ নেতা। যদিও এই প্রথম নয় এর আগেও একাধিক সংঘ নেতা দলিত এবং গোমাংস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here