মহানগর ওয়েবডেস্ক: বহু শহরে সপ্তাহান্তে লকডাউন ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণে জুলাই মাসেও মূল্য সূচক বাড়ল লক্ষণীয় ভাবে। তারই ফলে বাড়ল মুদ্রাস্ফীতি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে মূল্য সূচক (সিপিআই) ৬.৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। জুন মাসে মূল্য সূচকের বৃদ্ধির হার ছিল ৬.২ শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছিল ৮.৭ শতাংশ।

নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যের মূল্য অর্থাৎ খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি, জামাকাপড়, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুতের মূল্য এই সব মিলিয়েই মূল্য সূচক নির্ধারিত হয়। জুলাই মাস নিয়ে পরপর চার মাস মুদ্রাস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হল। শুধু তাই নয়, ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দ্বারা নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য হারকেও অতিক্রম করে গেল। গত ৬ অগস্ট রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস আর্থিক পরিকল্পনা কমিটির বৈঠকের পর সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির কথা বলেছিলেন। এই কমিটি দেশের আর্থিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে ঋণগ্রহীতাদের সুদের হার নির্ধারণ করে।

গভর্নর আর্থিক পরিকল্পনা কমিটির বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মুদ্রাস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (অক্টোবর ২০–মার্চ ২১) অবস্থা কিছুটা সহজ হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতির হার কম থাকলে সুদের হারও কম হয় এবং সেই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ঝোঁক বৃদ্ধি পায়।

আর্থিক বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী অথচ মুদ্রাস্ফীতি  ঊর্ধ্বমুখী হলে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার কারণ তৈরি হয়। এই অবস্থাকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বলে অভিহিত করেন অর্থনীতিবিদরা যেখানে অর্থনীতি ঝিমিয়ে থাকলেও বাজারের মূল্যবৃদ্ধি হয়ে চলে। বর্তমানে খানিকটা সেই অবস্থাই তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির হার শহরের থেকেও বেশি হয়েছে জুলাই মাসে। শহরে যেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৬.৮ শতাংশ গ্রামে সেই হার ৭.০৪ শতাংশ।  খাদ্য দ্রব্য ছাড়াও ক্রেতাদের পরিবহণের জন্য অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। জুলাই মাসে সবজির দাম বেড়েছে ১১.২৯ শতাংশ, ডালের দাম বেড়েছে ১৫.৯২ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের  তরফে বলা হচ্ছে লকডাউনের জন্য অনিয়মিত জোগান এবং মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, বিহারের বন্যা পরিস্থিতির জন্য বহু ট্রাক আটকে থাকাই হঠাৎ করে এতটা দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here