ডেস্ক: শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে সিপিএমের জেলা কমিটি নির্বাচনের বৈঠক শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে ক্রমশই বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। বারবারই উঠে আসে সেই কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গ। এবং এই নিয়ে দুই পক্ষের দ্বিমতের মধ্যেই কলকাতা জেলা কমিটিতে বেশকিছু ‘চুলপাকা’ মাথাদের সরিয়ে উঠে আসলো এক ঝাঁক নতুন মুখ। কলকাতা জেলা কমিটির নব নির্বাচিত সম্পাদক হলেন কল্লোল মজুমদার।

৪৮ ঘণ্টা ধরে চলা তাত্ত্বিক আলোচনার পরও সেই কংগ্রেস কাঁটাই বিঁধে সিপিএমের গায়ে। জোট হবে কিনা সেই প্রসঙ্গে দুভাগে ভাগ হয়ে যায় সিপিএম। জোটের পক্ষে এবং এবং বিপক্ষে থাকা নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে আলোচনার মাধ্যমে অবশেষে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং চেয়ারম্যান বিমান বসু হাজার চেষ্টা করলেন আটকানো যায় না ভোট। দুদিনের সম্মেলন শেষে জেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্যানেল জমা পড়ে। কিন্তু সেই প্রস্তাব পেশ করার পরই তার বিরুদ্ধে ভোটে নেমে পড়েন সিপিএমের কয়েকজন। ভোট শেষে জয়ী হয় প্রস্তাবিত প্যানেলই।

অন্যদিকে, পুরনো কমিটি থেকে বাড়তে থাকা বয়সের জন্য নাম কাটা যায় বেশ কয়েকজন প্রবীণের। বাদ পড়েছেন গতবারের সম্পাদক নিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় সহ শ্রমিক আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা। নাম নেই রাজাদেও গোয়ালা, দিলীপ সেনের মতো অভিজ্ঞ নেতাদেরও।

কলকাতার জন্য নতুন জেলা কমিটি নির্বাচিত হলেও সম্পাদক নির্বাচন নিয়ে ফের দ্বন্দ্ব শুরু হয় দুই পক্ষে। দ্বন্দ্বের কারণও সেই কংগ্রেস প্রসঙ্গই। প্রাক্তন মন্ত্রী মানব মুখার্জী এবং কল্লোল মজুমদারের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয় কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে। কল্লোলবাবু কোনও ভাবেই জোটের পক্ষে কথা বলেন নি। অন্যদিকে মানববাবু রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কল্লোল মজুমদারের প্যানেলই জয়ী হয়।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও উত্তাল হয় সিপিএম অন্দরমহল। একদিনে সীতারাম ইয়েচুরি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু প্রকাশ কারাট গোষ্ঠী কংগ্রেস বিরোধী অবস্থানেই অনড় ছিল। শেষ হাসি হাসেন সেই প্রকাশ কারাটই। এই বৈঠকের সময়ই প্রকাশ্যে এসেছিল সিপিএমে দলের অন্দরে ফাটল। কলকাতা জেলা কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here