মহানগর ডেস্ক, শিলিগুড়ি: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় হাত ধরে বিজেপিতে প্রবেশ করলেন সিপিআইএমের যুবনেতা শংকর ঘোষ। এদিন শিলিগুড়ির একটি বিলাসবহুল হোটেলে বিজেপির রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন শিলিগুড়ি জেলা বামফ্রন্টের দাপুটে নেতা শংকর।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার শঙ্কর ঘোষ দলত্যাগ করার পর তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তৈরি হয়েছিল একাধিক জল্পনা। দলত্যাগের মুহূর্তে কিছু না জানালেও বৃহস্পতিবার তাঁর অসুস্থ মাকে দেখতে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে যান বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। তারপর থেকেই শংকর ঘোষের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এদিন তাঁর হাত থেকেই গেরুয়া পতাকা তুলে নিলেন সিপিআইএমের দপুটে নেতা শংকর ঘোষ। এদিনের  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা

গেরুয়া শিবিরে যোগদান করে শঙ্কর বলেন, ‘৩০বছর ধরে সিপিআইএমের হয়ে মানুষের জন্য যে ভাবে কাজ করে এসেছি, সেই ভাবেই কাজ করে যেতে চাই।’ কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘শংকর যোগদানের আগেই বলে ছিলেন, যদি বিজেপি সূযোগ দেয় তবে কাজ করে দেখাবো। শঙ্কর গরীবদের জন্য কাজ করতে চায়, আর আমরা তাঁকে সেই সুযোগ করে দিতে পেরে ধন্য।’ তবে শংকরের দলবদল প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই সব বিষয়ে যত কম বলা যায় তত মঙ্গল। আমাদের দল তাকে বহিস্কৃত করেছে তাই তার বিষয়ে কোন কথা বলতে চাই না। যার যেখানে ইচ্ছা যাক, তাতে দলের কোনও ক্ষতি হবেনা।’

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শিলিগুড়ির যুব সমাজের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব আছে শংকরের। তাঁর দল ছাড়ার ফলে আগামী নির্বাচনে সিপিআইএম চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে শংকরের হাত ধরে আগামীতে বাম ছাত্র-যুব কর্মীদের একটা বিরাট অংশ যোগদান করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।    

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here