h
h

ডেস্ক: কোনও ভাবেই জোট নয় কংগ্রেসের সঙ্গে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে বেশিরভাগ সদস্যের মতামত গিয়েছে জোটের বিপক্ষে। সিপিএমের পরবর্তী গতিপথ ঠিক কিরকম হতে চলেছে সেই নিয়ে ভোট যুদ্ধে নামেন প্রকাশ কারাট ও সীতারাম ইয়েচুরি। কিন্তু ইয়েচুরির বিপক্ষে গিয়ে প্রায় ৫৫ জন সদস্য জোটের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, অন্যদিকে ৩১ জন ভোট দিয়েছেন জোটের পক্ষে। এই বৈঠকে কারাট ও ইয়েচুরি উভয়েই কার্যত স্বীকার করে নেন দেশে এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। তাদের ক্ষমতাচ্যুত করাটাই প্রধান উদ্দেশ্য।

কিন্তু দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল দল কোনপথে চলবে সেই নিয়ে। প্রকাশ্যে কংগ্রেসের নাম না নিলেও, জাতীয় স্তরে এই মুহূর্তে বিজেপির প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় আসার ইশারা দেন ইয়েচুরি। কিন্তু কারাট সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ফয়সালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়েচুরি শিবিরকে কুপোকাত করে নিজের খসড়াই চূড়ান্ত করে নেন কারাট। প্রকাশ কারাট এবং এস রামচন্দ্রন পিল্লাইয়ের খসড়ায় বলা হয়, ‘কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট বা সমঝোতায় না গিয়েই’‌ বিজেপিকে হারাতে হবে। সেক্ষেত্রে কারাটদের বক্তব্য, বিজেপি’‌র সঙ্গে নেই কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে এমন প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করা যায়।

ভোট শেষে ক্ষুব্ধ সীতারাম ইয়েচুরি কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু বঙ্গব্রিগেড ঝাঁপিয়ে তাঁর ইস্তফা আটকে নেয়। অন্যদিকে প্রকাশ কারাটের খসড়াতে বলা হয়েছে, ১) ধর্মনিরপেক্ষ দল হলেও কংগ্রেস পুঁজিবাদী শক্তি ২) এমন শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কোনভাবেই নয় ৩) কোনও আন্দোলনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে পাশে নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে ফেলেছে কমিশন। ত্রিপুরায় উদীয়মান শক্তি বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে মরিয়া বামপন্থী শাসক দল। সেখানে কোনও ধর্মনিরপেক্ষ দলকেই জোটসঙ্গি হিসাবে চাইছিল ইয়েচুরি গোষ্ঠী। কংগ্রেসের হাত ধরা নিয়ে নরমপন্থী মনোভাব ছিল ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারেরও। বরাবর ইয়েচুরির পাশে ছিল বঙ্গব্রিগেডও। শুক্রবার বৈঠকের প্রথমদিনে সীতায়াম ইয়েচুরি শুরুতেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আহ্বান করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, যাতে হায়দরাবাদে পার্টি কংগ্রেস হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু কারাটের চরম্পন্থী মনোভাব এবং কেরল-সহ দক্ষিণের সাত রাজ্য এই পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here