Kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে আমফান দুর্নীতির সাফাই দিতে গিয়ে সম্প্রতি বামেদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাম জমানার বদনামে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন প্রাক্তন বাম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। জানিয়ে দিলেন, ‘সরকারি মঞ্চে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দু একটা জায়গায় দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাটা অনেক বেশি। যেমনটা বলেছিলেন, শরীর থাকলে জ্বর হয় তেমনই রেপও হয়।’ মঙ্গলবার মুজাফফর আহমেদ ভবনে, সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি।

আমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রথম থেকেই স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে। এই প্রসঙ্গে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেসের তরফে একযোগে অভিযোগের তীর ছিল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই। তবে এই বিষয়ে দলীয় নেতাদের মুখ খুলতে দেখা গেলেও, বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনো বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। তবে দুর্নীতির যে হয়েছে, তা কিছুদিন আগে আংশিকভাবে স্বীকার করে নিলেও, এদিন এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে বিরোধীদেরই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ঘটে যাওয়া দু-একটা ঘটনা নিয়ে ইচ্ছাকৃত শোরগোল পাকাচ্ছে বিরোধীরা। বাম আমলে ১০০ শতাংশ দুর্নীতি হত।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মোঃ সেলিম। সেলিমের বক্তব্য, বাম জামানাতেও কিছু দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি রুখতে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এরপরই তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদের কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ! তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল আপাদমস্তক একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল। তৃণমূলের জামানায় লুটের রাজত্ব চলছে। ভুল পথে মানুষকে পরিচালনা করা হয়েছে। আর এখন সিপিএমের ৩৪ বছরের জামানা তুলে গাল দিচ্ছে। রাজ্যবাসীকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। নিজেরা ব্যর্থতা ঢাকতে ৩৪ বছরের বাম জামানা নিয়ে কথা বলছে।’

অন্যদিকে, বামেরা বারবার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করেছে বলে এদিন জানার মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্যের পরিকাঠামোর অভাবে সমস্যা বাড়ছে। করোনা টেস্টে প্রথমে গতি আসেনি। করোনা নয় সরকার বেসরকারিকরণের ব্যস্ত ছিল। পেট্রোপণ্য থেকে মুনাফা লুটতে ব্যস্ত ছিল সরকার। একইভাবে জেলায় জেলায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতি তৃণমূলেরই। ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছে তৃণমূল নেতারা।’

তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়কেই এদিন দায়ী করেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যের যথাযথ পরিকাঠামো ছিল না। তার ফলে সংক্রমণ বেড়েছে। এটা প্রথম থেকে আমরা বলে এসেছিলাম। কিন্তু সরকার সেদিকে কান দেয়নি। সরকার ব্যস্ত ছিল হিন্দু মুসলমান করতে, জিনিসের দাম বাড়াতে ও কর্মী ছাঁটাইয়ের সুযোগ করে দিতে। নোট বাতিলের মতো লকডাউনও সফল হয়নি। তার কথায়, ‘লক আনলক ব্যর্থ, মমতা মোদী অপদার্থ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here