ডেস্ক: এমনটা হবে জানাই ছিল, খানিকটা প্রত্যাশা মতোই প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসানকে বহিষ্কৃত করল সিপিএম। প্রায় ৪২ বছর সক্রিয়ভাবে সিপিএমের কাজ করার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কৃত কর রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলী। বর্তমানে তিনি বিধায়ক ও সাংসদে কোনও পদে না থাকলেও দক্ষ সংগঠক রূপে প্রচুর সুনাম রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক মহলে।

যদিও দল যে ছাড়বেন এ কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মইনুল। বিগত কয়েক বছর ধরেই দলের সঙ্গে তলানিতে ঠেকেছে সম্পর্ক। ফলে এই সিদ্ধান্তটা যে আসবে তা প্রত্যাশিত ছিল। কারণ পার্টি কংগ্রেসে তিনি যে যাবেন তা না আগেই জানিয়েছিলেন। অবশেষে তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে দল। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সুর্যকান্ত মিশ্র। কারণ দল ছাড়ার কথা মইনুল আগেই ঘোষণা করে দিলেও বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করতে অনেকটাই সময় খরচ করে ফেলেছে সিপিএম। তিনি নিজে দল ছাড়ার আগে তাঁকে কেন বহিষ্কার করা হল না এই নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সুর্যবাবুকে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সিপিএমের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধার পক্ষে ছিলেন তিনি। কিন্তু মইনুলের এই মনোভাব একেবারেই পছন্দ হয়নি বাম শিবিরের। তখন থেকে মতভেদের সুত্রপাত। এরপরই শোনা যায়, তৃণমূলের সঙ্গে নাকি সখ্যতা তৈরি হয়েছে প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের। এরপর ক্রমশ রাজ্য কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া তাঁকে। মহম্মদ সেলিম অবশ্য বলেন, অনেকদিন আগে থেকেই মইনুলকে দল থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

তবে মুর্শিদাবাদের এই প্রাক্তন সাংসদকে তাঁর দল বহিষ্কার করার ফলে আখেরে লাভ যে তৃণমূলেরই হবে তা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদকে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অবস্থায় তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখার জন্য পরিচিত মইনুল যদি আগামী লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে কোনও বড় ‘চমক’ দেন, তবে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here