ডেস্ক: পঞ্চায়েত নিয়ে চরম বিতর্কের মাঝে গতকালই বেনজির নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভাঙড়ে ৯ প্রার্থীর হোয়াটস অ্যাপে জমা দেওয়া মনোনয়ন স্বীকার করার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের এই নির্দেশকেই মাধ্যম করে এবার মাঠে নামল সিপিআইএম। মার দাঙ্গার মাঝে বিডিও অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে না পারা প্রার্থীদের ই-মেলে পাঠানো মনোনয়নকে স্বীকৃতি দেওয়ায়র আবেদন জানালো তাঁরা। তবে হাইকোর্টে এই আবেদন জানালেও তাঁদের এই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। এরপর ওই একই দাবীতে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্যের বাম সংগঠন।

সিপিএমের দাবি, আদালত যদি হোয়াটস অ্যাপের মনোনয়নকে মান্যতা দিতে পারেন, তবে ইমেলকে নয় কেন? এই প্রশ্নেই নতুন করে বিতর্কে জড়াল পঞ্চায়েত ভোট। কারন, রাজ্য জুড়ে হিংসা, অস্ত্রের দাপাদাপির মাঝে নির্দিষ্ট জায়গায় মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে ইমেলে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন সিপিএমের বহু প্রার্থী। প্রার্থীদের জমা দেওয়া সেই মনোনয়নকেই এবার মান্যতা দেওয়ার দাবীতে আদালতের দ্বারস্থ হল সিপিএম। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ আবেদনকারীদের এই আবেদন গ্রহণ না করলেও ডিভিশন তা স্বীকার করবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

উল্লেখ্য, মামলায় জর্জরিত পঞ্চায়েত ভোট কবে হবে তা নিয়ে চিন্তিত গোটা রাজ্য। এদিকে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে হিংসার জেরে আদালতের রায়ে নতুন করে মনোনয়নের দিন প্রকাশ করে কমিশন। তবে অশান্তি তাতেও কাটেনি। আগের মতো মনোনয়নের বর্ধিত দিনেও জারি ছিল হিংসা। মনোনয়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হয় ভাঙড়ের জমি রক্ষা কমিটির নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী। এরপর বিডিও অফিসে গেলে বিপদের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় বিডিওকে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেয় ৯ প্রার্থী। কমিশন সেই মনোনয়ন স্বীকার করতে অস্বীকার করলেও আদালতের নির্দেশে পরে তা স্বীকার করে কমিশন। আদালতের এই নজিরবিহীন নির্দেশের পরই ইমেলের মনোনয়নকে মান্যতা দেওয়ার দাবীতে আদালতের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। তবে সিঙ্গেল বেঞ্চে সেই আবেদন স্বীকৃত না হওয়ায় এবার ডিভিশন বেঞ্চে নিজেদের দাবি পেশ করার পথে সিপিএম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here