ডেস্ক: রেকর্ড ফেলকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট বৈঠকে নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া মূল্যায়ন পদ্ধতি বাতিল করে পুরনো মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেই ফের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর বিএ, বিএসির প্রথম বর্ষের ফল বাতিল হল। ৬০ শতাংশ অকৃতকার্য পড়ুয়াদের ফল পুনরায় প্রকাশ করা। নয়া পদ্ধতিতে রেকর্ড ফেলের জেরে যে বিরাট সংখ্যক পড়ুয়ারা ফেল করেছে, তাকে আপাতত সরিয়ে রেখে পুরনো মূল্যায়ন পদ্ধতি জারি রাখারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারও পুরনো পদ্ধতিতেই সায় দিয়েছে। এর ফলে পুরনো মার্কশিট তুলে নিয়ে নতুন মার্কশিট বিলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। উল্লেখ্য, আজই ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল হয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এই ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয় উত্তর কলকাতার একাধিক কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। সবমিলিয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভের ফলে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় কলেজ স্ট্রিটে।

অন্যদিকে পাশ করানোর দাবি ঘিরে উত্তপ্ত হয় রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাসও। সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধানকে ঘেরাও করে রাখে বি টেক তৃতীয়বর্ষের ছাত্ররা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গেট বন্ধ করেও বিক্ষোভ বহুক্ষণ বিক্ষোভ চলে পড়ুয়াদের। চতুর্থ সেমিস্টারের নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে কয়েকজনকে পাশ করানোর দাবিতে অধ্যাপক ঘেরাও করে ছাত্ররা।

অন্যদিকে ফেলের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় ডুমুরজলায় ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়দে বলেছিলেন, ”ওদের ব্যাপারটা একটু দেখবেন।” তারপর নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিতে বদলের কোনও ইঙ্গিত না দিয়েই পড়ুয়াদের পড়াশুনায় আরও মনযোগী হতে বলেন পার্থবাবু। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আন্দোলন করলেই চালু একটা নিয়ম হঠাৎ করে বদল করা যায় না। ফলে এই ধরনের আন্দোলনকে আমরা মান্যতা দিতে পারি না। তবে মানবিক দিক থেকে এই বিষয়টি দেখা হবে। ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিং রয়েছে। আমরা অনুরোধ করছি পুরানো নিয়মই চালু রাখতে। সরকারের পক্ষ্য থেকে আমরা কোনও বিষয়ে প্রস্তাব রাখতে পারি, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যাপার।”

তবে তিনি জানান যে, ছাত্রছাত্রীদের যেন কোনও বছর নষ্ট না হয় সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। ব্যাপক হারে পড়ুয়া ফেল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও যে উদ্বিগ্ন সে কথাও জানান পার্থবাবু। পড়ুয়াদের আরও মনযোগী হওয়ার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করব ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ না দেখিয়ে বইয়ের পাতা উল্টে দেখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট-১ এবং অনার্সের অসফলতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাতে যা হিসাব পাওয়া গেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। এই ধরনের আন্দোলনকে আমরা উৎসাহ দিচ্ছি না। তবে নতুন ধরনের নিয়ম এবং জনমতে তা প্রভাব ফেলেছে৷ তাই বিশ্ববিদ্যালগ কতৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।”

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here