ডেস্ক: রাজ্য সরকারের দাবি ডিএ সরকারি কর্মচারীদের অধিকার নয়। এদিকে পাল্টা দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের দাবি এটা তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা হাইকোর্টে চলছে ডিএ মামলা। মঙ্গলবার অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টে শেষ হল ডিএ মামলার শুনানি। তবে শুনানি শেষ হলেও মামলার রায়দান স্থগিত রাখল বিচারপতি দেবাশিষ করগুপ্ত এবং শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ।

ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার নয় এই দাবিতে একাধিকবার আদালতে সাওয়াল করেছে রাজ্য বলা হয়েছে আইন নয় নীতিগত বাধ্যবাধকতা থেকে কর্মীদের ডিএ দেয় রাজ্য। রাজ্যের সেই দাবির পাল্টা দিয়ে সরকারি কর্মীচারিদের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তিনি বলেন, ‘সংসদে ডিএ নিয়ে বিধি তৈরি হয়, ডিএ নিয়ে কমিশন গঠিত হয় এমনকি মহার্ঘভাতার পরিমাণ খতিয়ে দেখতে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বানানো হয়, সেক্ষেত্রে ডিএ যে কর্মীদের অধিকার নয় তা কিভাবে দাবি করে রাজ্য সরকার?’ এদিন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে সংবিধানের ৩০৯ ধারা অনুযায়ী, ২০০৯ সালে রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালাউন্স আইন তৈরি করে রাজ্য সরকার। এই আইনের মধ্যেই ডিএ-র অধিকারের কথা নিহিত। তবে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতাকে কেন আইনি অধিকার বলব না? এতদিন ডিএ ইস্যুতে একাধিকবার আদালতের তোপের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। এদিন সেই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় কোনদিকে যাবে সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য, রীতিমতো চাপে পড়েই সম্প্রতি ১৫ শতাংশ হারে ডিএ বাড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ডিএ দেওয়ার ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের বেতনের ফারাক দাড়িয়েছে ৩৯ শতাংশ। কিন্তু গত ৭ মার্চ আরও ২ শতাংশ হারে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণায় রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের বেতনের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here