কলকাতা: ডিএ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। মঙ্গলবার আদালতে মামলা ছিল বকেয়া ডিএ কর্মীদের দেওয়া হোক, এবং একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় হারে রাজ্যে হোক বেতন বৃদ্ধি। মঙ্গলবার সেই মামলার শেষ শুনানির দিনেই রায় দান করতে চেয়েছিলেন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি। তবে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কিশোর দত্তর অনুরোধে আরও একদিন পিছলো ডিএ মামলার শুনানি। তবে এদিনের ডিএ মামলার শুনানিতে রীতিমতো বকা খেলেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী।

এদিনের শুনানিতে কিশোরবাবু বিভিন্ন উদাহরন টেনে বলেন, রাজ্য সরকারের একই পদে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম বেতন কাঠামো। তাঁর উদাহরনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জানান, ‘আপনার উদাহরন অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে কর্মীদের বেতন পার্থক্যের পরিকাঠামো শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য বা স্থান বিশেষের পার্থক্যের জন্য। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে? কিশোরবাবু জানান, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই। এবং ডিএর উপর রাজ্যসরকারের কর্মচারীদের কোনও অধিকার নেই। এটা সরকার নিজের ইচ্ছা এবং সামর্থ অনুযায়ী দেয়। এরপরই ক্ষুব্ধ বিচারপতি আইনজীবীকে জানিয়ে দেন, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই সেখানে কিভাবে রাজ্য সরকার একএক জনকে একএক রকম ডিএ কিভাবে দিতে পারেন? আপনি কি বলতে চাইছে যে সব সরকারি কর্মীরা দিল্লি কিংবা চেন্নাইতে কাজ করেন তাঁরা কি রাজ্য সরকারি কর্মীদের চেয়ে বেশি যোগ্য? এরপরই নিজের বক্তব্য পেশের জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়ে নেন সরকারি আইনজীবী কিশোর দত্ত।

কিশোরবাবুর অনুরোধ মেনে ডিএ মামলার আরও একটি শুনানির দিন ধার্য্য করেন ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপত। ঠিক হয় আগামী ১৭ ই জুলাই সরকারের তরফ থেকে নতুন করে যদি কিছু বলার থাকে তবে তা শোনা হবে। এবং ওই দিনই ডিএ মামলায় সরকারি কর্মচারীদের ভাগ্যও নির্ধারিত হয়ে যাবে। এদিকে ডিএ মামলায় যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে রাজ্য তাতে ডিএর রায় সরকারি কর্মচারীদের দিকে যাবে বলেই আশাবাদী মামলাকারীদের আইনজীবীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here