kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বহু বছর ধরে মেয়েকে যৌন হেনস্থা করত বাবা৷ দিনের পর দিন মুখ বুঝে সবটা সহ্য করেছিল মেয়ে৷ তবে একসময় সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায়৷ বাবাকে খুন করে তার দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে তা সুটকেটে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিল মেয়ে৷ তবে একা নয় , একাজে তাকে সাহায্য করে তার প্রেমিক৷ এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল বাণিজ্যনগরী মুম্বই৷ মুম্বইয়ের মহিম বিচ থেকে সুটকেসটি উদ্ধার করে পুলিশ৷ যাতে টুকরো টুকরো অবস্থায় ছিল বেনেট রেইবেলোর দেহ৷ কিন্তু দেহটি দেখে ব্যক্তির পরিচয় চেনার মত অবস্থায় ছিল না পুলিশ৷ তবে ওই সুটকেস থেকে উদ্ধার হয় দুটি টি সার্ট, একটি প্যান্ট ও একটি সোয়েটার৷ এরমধ্যে একটি শার্টের গায়ে দর্জির দোকানের নাম লেখা ছিল৷ সেই সূত্র ধরেই দর্জির কাছে পৌঁছয় পুলিশ৷ সেখান থেকে পুলিশ জানতে পারে মৃত ব্যাক্তির নাম ও পরিচয়৷

নাম ও পরিচয় থাকলেও দর্জি তার ঠিকানা বলতে সক্ষম হননি৷ এরপর সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে পুলিশ বেনেট রেইবেলোর আস্তানার সন্ধান পান৷ সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখে তার বাড়িটি বন্ধ রয়েছে৷ স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা পুলিশ জানতে পারে বছর উনিশের একটি মেয়ে রয়েছে বেনেটের৷ যার নাম রিয়া বেনেট রেইবেলোর৷ ছোটোবেলাই তাকে দত্তক নিয়েছিল বেনেট৷ পুলিশ আরও জানতে পারে শহরে নানা মিউজিক্যাল ইভেন্টের উদ্যোক্তা ছিল এই বেনেট৷ এরপর রিয়ার খোঁজ শুরু করে পুলিশ৷ রিয়াকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রথমটায় সে জানিয়েছিল যে তার বাবা কানাডায় গিয়েছে তবে পরে পুলিশের কাছে রিয়া স্বীকার করে যে নিজের হাতেই সে খুন করেছে তার বাবাকে৷ নেপথ্যে বছরের পর বছর যৌন হেনস্থা৷

রিয়া জানায়,তার বছর ষোলোর প্রেমিকও এই ঘটনায় সাহায্য করেছে তাকে৷ এরপরই পুলিশের কাছে খুনের বিবরণ দেয় রিয়া৷ রিয়া জানায়, দিনের পর দিন তার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাত তার বাবা৷ একসময় আর সহ্য করতে না পেরে খুনের ছক কষে সে৷ সাহায্য নেয় তার প্রেমিকের৷ ২৬ নভেম্বর প্রথমে লাঠি দিয়ে বেনেটের মাথায় আঘাত করে তারা৷ এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেনেটকে খুন করে তার মেয়ে৷ এরপর টানা তিনদিন বেনেটের মৃতদেহটি নিজেদের সঙ্গেই সান্তা ক্রুজের ফ্ল্যাটে রেখেছিল রিয়া৷ তবে তা থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে দেহটিকে টুকরো টুকরো করে কেটে তা সুটকেসে ভরে দেয় সে৷ এরপর তা ভাকোলার মিঠি নদীতে ভাসিয়ে দেয় তারা৷ ভাসতে ভাসতে তা এসে পৌঁছায় মহিম বিচে৷

ঘটনায় রিয়া ও প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ৷ চলছে তদন্ত ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here