kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা ও তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরের রূপ নারায়ণ ও মালদার মহানন্দায় ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় শোকের ছায়া এখনও রয়ে গিয়েছে। আর ফের মালদা ও তমলুকে নৌকাডুবির পুনরাবৃত্তি অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও অচেতনতাকেই দায়ী করে উস্কে দিল সেই শোক।

উৎসবের মরশুমে যাতে আর নৌকাডুবির মত কোন দুর্ঘটনা না ঘটে তাই ছিল জারি হয়েছিল বিশেষ নির্দেশিকা। রাজ্যের সমস্ত ফেরিঘাট ও জল যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এডিজি ( ট্রাফিক ) বিবেক সহায় রাজ্য কমিশনারেট ও পুলিশ সুপারদের ফেরিঘাট গুলিতে নজরদারি রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন। ফেরিঘাট পিছু একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল সেই নির্দেশিকায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পর্যবেক্ষক হিসেবে একজন পদস্থ পুলিশ অফিসারেরও থাকার কথা ছিল। পরিমাণ মত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম যাতে থাকে সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া ছিল যাতে প্রতি ফেরিঘাটে যেন ‘জলসাথী’ বা ডুবুরি থাকে। প্রতি ঘাটে আনুমানিক যাত্রী সংখ্যা কত থাকে ও পুজোর সময় তা কত বাড়ে সেই হিসেব রাখাও ছিল বাধ্যতামূলক। তারও আগে রাজ্য জুড়ে সমস্ত বেআইনি ফেরিঘাট বন্ধের নির্দেশ ছিল। তবু এড়ানো গেল না দুর্ঘটনা।
দশমীর রাতে নৌকা করে বিসর্জন দেখতে গিয়ে নৌকা উল্টে মৃত্যু হল ৩ শিশুর। মালদার বৈষ্ণব নগরের ভবানী মণ্ডল পাড়া থেকে একটি ছোট নৌকায় করে যাত্রীরা যাচ্ছিল মহেন্দ্রপুর এলাকায়। জানা গিয়েছে, নৌকায় পরিমাণের চেয়ে বেশি যাত্রী উঠেছিল। হঠাৎই কৃষ্ণপুর গ্রামের ঘাটের কাছে নৌকাটি উল্টে যায়। কয়েকজন সাঁতরে পাড়ে উঠলেও তলিয়ে যায় ৩ শিশু। নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। স্থানীয়দের সাহায্যে চলে উদ্ধারকার্য। নামানো হয়েছে ডুবুরিও। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকের বিডিও। জানা গিয়েছে, মৃত ৩ শিশু জুলি মণ্ডল, ধীরাজ মণ্ডল ও প্রেম কুমার মণ্ডল কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই নৌকা শুধু যাত্রী বেশি ছিল এমনটাই নয়। লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধার সামগ্রী কিছুই ছিল না।

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানার হর শংকর গ্রামে মাছ চাষের ঝিলে নৌকায় করে বেড়াতে যাওয়ার সময় মৃত্যু হল ভাই-বোনের। নৌকায় ৬ জন যাত্রী ছিল। তবে, কোন উদ্ধার সরঞ্জাম বা লাইফ জ্যাকেট ছিল না। এদিন ঝিলে নৌকা চলতে চলতে হঠাৎ করেই পাল্টি খেয়ে যায়। সকলেই জলে পড়ে যায়। তবে ৪ জন সাঁতরে পাড়ে ওঠে। নিখোঁজ ছিলেন সুতপা মাইতি ও উজ্জ্বল মাইতি। অনেক খোঁজার পর স্থানীয়দের তৎপরতায় এই দুই ভাই-বোনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।

উত্তর ও দক্ষিণের দুই জেলায় বিসর্জনের দিনেই নৌকা ডুবির ফলে মৃত্যুর ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here