ছিনতাইবাজদের হামলায় ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু মা-মেয়ের, আরপিএফের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দুর্গাপুরবাসীর

0
105

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর: মেয়েকে নিয়ে কোটার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করাতে যাচ্ছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মীনা দেবী। কিন্তু মাঝপথে ছিনতাইকারীদের হামলার জেরে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মা, মেয়ে- দু’জনেরই মৃত্যু হল। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম মীনা ডোম (৪৫) ও মণীষা কুমারি (২১)। ত্রিবান্দ্রম এক্সপ্রেসে মথুরা স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটলেও এঁরা দুর্গাপুরের বাসিন্দা। ফলে রবিবার দুপুরে দেহ দুটি দুর্গাপুরে পৌঁছোতেই রেল পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান দুর্গাপুরের বাসিন্দারা।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের ২১ নং ওয়ার্ডের রাঁচী কলোনীর বাসিন্দা মীনা ডোমের মেয়ে মণীষা এবছর সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে রাজস্থানের কোটা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। মেয়েকে কলেজে ভর্তি করতেই শনিবার গতকাল দুর্গাপুর থেকে ত্রিবান্দ্রম এক্সপ্রেসে চড়ে রাজস্থান রওনা দেন মীনাদেবী। কিন্তু মাঝরাতে ট্রেনে তাঁদের কামরায় কয়েকজন ছিনতাইবাজ ওঠে। তারা মীনাদেবীর কাছে থাকা কাগজপত্র ও টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে যায়। মীনাদেবী বাধা দিলে ছিনতাইবাজদের সঙ্গে তাঁর ধ্বস্তাধস্তি হয়। তখন ওই ছিনতাইবাজরা মীনাদেবীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। মাকে বাঁচাতে গিয়ে মণীষাও ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। কিন্তু কেউই বাঁচতে পারেননি। এদিন ভোরে মথুরা স্টেশনের কাছে রেললাইন থেকে মা, মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপর ময়নাতদন্তের পর রেলের তরফেই দেহ দুটি দুর্গাপুরে মৃতদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

মীনাদেবী এবং মণীষার দেহ দুর্গাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছোতেই রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্টেশনের মধ্যেই মৃতদেহ ঘিরে ধরে রেল পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, এক্সপ্রেস ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় ছিনতাইবাজরা উঠে দু’জনের মৃত্যু হয়ে গেল। অথচ আরপিএফের দেখা মেলেনি। এক্সপ্রেস ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে মীনাদেবী এবং মণীষা কুমারীর মৃত্যুর প্রকৃত তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতে আরপিএফ থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও পূর্ব রেলওয়ের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের পরই বিক্ষোভ ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here