মহানগর ওয়েবডেস্ক: টানা ১৫ বছরের রাজত্ব থেকে অবসান নিয়েছিলেন আগেই। এবার জীবনযুদ্ধে অবসান ঘটল তাঁর। শনিবার বেলা ৩টে ১৫ নাগাদ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেত্রী শীলা দীক্ষিত। রবিবার সকালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাড়িতে হাজির হলেন দিল্লি তথা দেশের বর্ষীয়ান নেতারা। দলমত নির্বিশেষে এদিন সকালে দক্ষিণ দিল্লিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হাজির হন কংগ্রেস বিজেপি আমা আদমি পার্টির বর্ষীয়ান নেতারা। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন জানিয়ে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় মধ্য দিল্লির কংগ্রেস পার্টি অফিসে।

এদিন সকাল থেকেই শয়ে শয়ে মানুষের জমায়েত দেখা যায় কংগ্রেসের পার্টি অফিসের সামনে। টানা তিন বছর ধরে শক্ত হাতে মখুমন্ত্রী পদের দায়িত্ব সামলে এসেছিলেন প্রয়াত শীলা দীক্ষিত। তাঁকে শেষ একটিবার চোখের দেখা দেখার জন্য দিল্লিবাসীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি নিজামুদ্দিনে আসেন অমিত শাহ, সুষমা স্বরাজ সহ লালকৃষ্ণ আডবাণী, ওমর আবদুল্লা আর অনেক।

সূত্রের খবর, এদিন দিল্লি কংগ্রেসের তরফে আয়োজন করা হয় এক পদ যাত্রার। মধ্য দিল্লির কংগ্রেস ভবন থেকে আরম্ভ করে দুপুর ২.৩০ নাগাদ যমুনা নদের তীরে পদযাত্রাটা শেষ হবে নিগাম বোধ ঘাটে। দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে মরদেহ কংগ্রেসের সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয় ফুল ও তাঁর ছবিতে সজ্জিত গাড়িতে করে। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে মধ্য দিল্লির কংগ্রেসের সদর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর তনয়া প্রিয়াঙ্কা সহ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোনিয়া বলেন, ‘উনি আমার দিদির মতো ছিলেন। সারা জীবন পাশে পেয়েছি তাঁকে। ওনার মৃত্যু শুধুমাত্র দেশের ব্যাপক ক্ষতিই নয়, প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম আমরাও। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্তরেই নয় ব্যক্তিগত স্তরেই আমাদের সম্পর্ক ছিল দিদি-বোনের। ওনার মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত।’

দিল্লির ষষ্ঠবারের মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াণে দিল্লিতে দু’দিনের শোক দিবস পালন করার কথা জানিয়েছে ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোড়িয়া। জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন শীলা দীক্ষিত। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনবার মুখ্যমন্ত্রী টানা ১৫ বছর দিল্লি শাসন করেন তিনি। দিল্লি কংগ্রেসের চেয়ারম্যানও ছিলেন শীলা দীক্ষিত। বিগত কয়েকদিন যাবত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। দিনকয়েক আগেই শেষ হওয়া লোকসভা ভোটে দিল্লি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি। কিন্তু বিশেষ সফলতা আসেনি। তারপর থেকেই গুটিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে দিনকয়েক আগেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। সেখানে ক্রমশ তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। গতকাল হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার দুপুর ৩টে ১৫ নাগাদ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় শীলা দীক্ষিতের। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়। বিকেল ৩টে ৫৫ নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here