corona news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাসের প্রকোপ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে, জাতির উদ্দেশে ভাষণে করোনা সামলাতে দেশবাসীর কাছে জনতা কার্ফুর আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী রবিবার নিজে থেকে ‘জনতা কার্ফু’ জারি করুন। ওই দিন কেউ বাড়ি থেকে বের হবেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই রবিবার রাজধানীর মেট্রো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিন নয়া দিল্লির মেট্রো কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার অর্থাৎ ২২ মার্চ ‘জনতা কার্ফু’ হতে চলেছে। সেই প্রেক্ষিতেই ডিএমআরডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মেট্রো পরিষেবা ওইদিন বন্ধ থাকবে। করোনা রুখতে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ মেনে এবং করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ভীষণ জরুরি।

উল্লেখ্য, ‘জনতা কার্ফু’র কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘দেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানব সভ্যতা সঙ্কটে। প্রত্যেক দেশবাসীর সতর্ক থাকাটা দরকার। এই ভাইরাস রুখতে এখনও বিজ্ঞান কোনও রাস্তা খুঁজে পায়নি। বের হয়নি কোনও ভ্যাকসিন। চিন্তা বাড়াটা স্বাভাবিক। পৃথিবীর যে দেশে করোনার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে শুরুর কিছু দিনের পর অসুখ বিস্ফোরণের আকার নিচ্ছে। কিছু দেশ এমনও রয়েছে যেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে অগ্রগন্য ভূমিকা নিয়েছে সেখানকার জনতা। এখানে নাগরিকদের ভূমিকাটাও দরকার। ১৩৩ কোটির দেশে করোনার সংকট সামান্য বিষয় নয়। ভারতে এর প্রভাব পড়বে না, এটা ভাবা ভুল। দুটি বিষয়ের উপর আমাদের নজর দেওয়া দরকার, ‘সংকল্প’ ও ‘সংযম’। আপনাদের সংকল্প করতে হবে, এই মহামারী রুখতে একজন নাগরিক হিসাবে আমাদের কর্তব্য পালন করব।’

এই বলে তিনি আর্জি জানান, জরুরী ও আপতকালীন কর্মী ছাড়া সকলে নিজেদের গৃহবন্দি করুন। ৬০ থেকে ৬৫ বছরের অধিকরা ঘরের বাইরে বের হবেন না। ২২ মার্চ রবিবার সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত জনতা কার্ফু পালন করুন। এই সময়ে কেউ বাড়ির বাইরে যাবেন না। জনতার জন্য নিজেদের থেকে তৈরি এই কার্ফু। জরুরী পরিস্থিতিতে যারা কাজ করেন তারা অবশ্য যাবেন। এই কার্ফু আমাদের আগামী পদক্ষেপের বিষয়ে সচেতন করবে। ভারত কতটা তৈরি সেটাও স্পষ্ট হবে এই কার্ফুর মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, ভারতের এখন যা হাল তাতে অধিকাংশ মানুষই ‘সেল্ফ কোয়ারন্টিনে’ চলে যাচ্ছেন। একাধিক রাজ্যে সাটডাউন ঘোষণা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শপিং মল, সিনেমা হল, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২০৬ জন, মৃত ৫ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here