delhi news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কয়েকদিন আগেও এমনটা ছিল না দিল্লি। অপরিচিত মানুষ দেখলেই কেমন যেন কুঁচকে উঠত ভ্রু জোড়া। হিংসাদীর্ণ সেই দিল্লিতেই হঠাৎ যেন মানবিকতা ফিরিয়ে আনল করোনা। দেশ বাঁচাতে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। এগিয়ে আসছে প্রশাসন। সকলে হাত মিলিয়েছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এবার দিল্লির মজলিস পার্কে বসবাসরত পাকিস্তানি রিফিউজিদের পাশে এসে দাঁড়ালেন দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিজয়ন্ত আর্য ও তার সঙ্গী সাথীরা। 21 দিনের এই কঠিন লড়াইয়ে তাদের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের খেটে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগুলো। তবে 21 দিনের দীর্ঘ সময় সেই সমস্ত মানুষগুলোর জন্য চালডাল, বিনামূল্যে গ্যাস, এমন কি মহিলাদের তিন মাস টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থী মানুষগুলি। এই সময়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর দিল্লি পুলিশ । প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হল নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয় পুলিশ কমিশনার আর্য জানান, ‘দিল্লিতে মজলিশ এলাকায় প্রায় 280 টি শরণার্থী পরিবার বসবাস করেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন তারা। যার জেরেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি ওই পরিবারগুলিকে সাহায্য করার। 21 দিনের এই সময়ে ওই পরিবারগুলিকে খাবার ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাহায্য করবে প্রশাসন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে সকলকে পাশে থাকার জন্য অনুরোধও করেন পুলিশ কমিশনার। অন্যদিকে, পুলিশের মানবিকতা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয় এক শরণার্থী জানান, এই এলাকাতে প্রায় 280 টি পরিবার বসবাস করেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে তারা কর্মহীন। চূড়ান্ত অভাব দেখা দিয়েছে বাড়ি গুলিতে। এমন একটা সময় দিল্লি পুলিশ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানো আমরা কৃতজ্ঞ। ওনারা মাস্ক সহ খাবার-দাবার ঔষধি দিয়ে আমাদের সাহায্য করছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেও ক্রমশ বাড়তে থাকা করোনা ভাইরাসের চেন কাটতে আগামী 21 দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলস্বরূপ দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে লকডাউন। এমন এক সময়ে মারণ ভাইরাসের থেকে দেশরক্ষা পাশাপাশি অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে সরকার। পিছিয়ে নেই আইন শৃঙ্খলার রক্ষকরা। তারই প্রমাণ স্বরূপ মানবিকতার মুখ দেখা গেল দিল্লি পুলিশের মধ্যেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here