business news

মহানগর ওয়েবডেক্স: সারা বিশ্বে করোনা হানা, ভারত ও আমেরিকায় লকডাউনে অর্থনীতির মন্দা আশঙ্কায় তেলের চাহিদা এতটাই কমে গিয়েছে যে এই বছরের মাঝামাঝি তেল রাখার আর জায়গা পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের চাহিদার এই অস্বাভাবিক হ্রাস অর্থনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী বদল আনতে চলেছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন তাঁরা। গত বছর এপ্রিল মাসে সারা বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের যা চাহিদা ছিল চলতি বছর এপ্রিল মাসে চাহিদা তার থেকে দেড় থেকে দু’কোটি ব্যারেল কমে যাবে বলে ধারণা শক্তি (energy) বিষয়ক পর্যালোচকদের। এই বিপুল চাহিদা পতনে তেল উৎপাদক সংস্থারা ইতিমধ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রাশ টেনেছে বলে সূত্রের খবর।

এই চাহিদা হ্রাস গোটা শিল্প ক্ষেত্রের চেহারায় বদল ঘটাতে চলেছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ ইনকরপোরেটেড। ৩০ মার্চ তাদের বিশ্লেষকরা জানান, চাহিদার এই বিপুল ঘাটতি তেল শিল্পে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। ইন্ডিয়ান অয়েল চাহিদা পতনে তেল পরিশোধনের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানের চাহিদা হ্রাস গোটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে কারণ সৌদি আরব সহ তেল উৎপাদনকারী ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি এবং রাশিয়া বাজার দখলের লড়াইয়ে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে। যার ফলে তেল পরিবহণ, মজুত করার জন্য ট্যাঙ্ক ও পাইপ লাইনে চাপ বেড়েছে অস্বাভাবিক মাত্রায়। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে চলতি বছরের মাঝামাঝি অপরিশোধিত তেল রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না, এমনই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

আমেরিকায় ইতিমধ্যেই গ্যাসোলিনের চাহিদা ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। জোগানের তুলনায় চাহিদা অত্যন্ত কম হওয়ায় মনে করা হচ্ছে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু দশ ডলার কমে যাবে যা বিগত দু’দশকের মধ্যে দেখা যায়নি। চাহিদা আার পুরনো জায়গায় ফিরবে কবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও বিশেষজ্ঞদের অভিমত চাহিদা বৃদ্ধি হলেও কার্বন নিঃসরণের নিয়মবিধি খনিজ তেল শিল্পকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বাধা দেবে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে উৎপাদন কমিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরব রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here