kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন। মুখে তিনি এনআরসি’র বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে এনআরসি’র আগের প্রক্রিয়া এনপিআর-এর জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এনপিআর আসলে এনআরসি’র সিরিয়াল প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকছেন। তিনি বলছেন এনপিআর আসলে জনগণনা। জনগণনা ২০২১ সালে হবে। এনপিআর করে ঠিক করা হবে কাদের এদেশ থেকে তাড়াতে হবে। আজ বাঁকুড়ার কমরার মাঠে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এই ভাষাতেই রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন সূর্যকান্ত মিশ্র।

তিনি বলেন, ‘দেশের ৬টি রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে তাদের রাজ্যে এনআরসি প্রয়োগ করতে দেবে না। তা সত্ত্বেও মোদী ও অমিত শাহ কোম্পানি জোর করে এনআরসি চাপাতে চাইছেন। মানুষ সারা দেশ জুড়ে সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিবাদ করবে। এদিনের সভা থেকে এনআরসি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন সূর্যকান্ত মিশ্র।’ তিনি বলেন, ‘এদের ক্ষমতা নেই জোর করে এদেশের কাউকে অন্য দেশে তাড়িয়ে দেওয়ার। কারণ, এর জন্য বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্থান সরকারকে রাজি হতে হবে। শুধুমাত্র দেশ জুড়ে ধর্ম, ভাষা, জাতিভিত্তিক মেরুকরণ করা যায়। দেশ জুড়ে বিশাল আর্থিক খারাপ পরিস্থিতিকে চাপা দেওয়ার জন্য এসব করা হচ্ছে।’

এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডিটেনশন ক্যাম্পের জন্য দুটি জায়গা ঠিক করেছেন। একটা নিউ টাউনে ও অন্যটি বনগাঁয়। আমরা বলেছি, ওখানে ডিটেনশন ক্যম্প তৈরি হলে আমরা তা ভেঙে দেব। জায়গা জানতে পারলেই সেখানে আমরা গিয়ে খুঁটি পুঁতে দিয়ে আসব বলে হুমকি দেন তিনি। একটা ইট বা একটা মানুষকেও যাতে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে না পারে তার জন্য আমরা ব্যবস্থা করব। এর বিরুদ্ধে সংগঠিত ও গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করব।

এদিনের সভা থেকে এই ভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে মুখ খুলেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র। প্রয়োজনে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার ব্যাপারেও যে বামেদের কোনও ছুতমার্গ নেই তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র। এছাড়া বালাকোট, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি, ব্যাঙ্ক, রেলের বেসকারিকরণ-সহ সব কিছুতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন সূর্যকান্ত মিশ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here