news bengali

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় আমপানের তাণ্ডবে গতকাল বিকেল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত কমপক্ষে রাজ্যে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানা গিয়েছে নবান্ন সূত্রে। এর মধ্যে কলকাতা থেকেই তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে তিন জন, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং হাওড়ায় দু’জন করে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকালই রাজ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছিলেন। নবান্ন থেকেই পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকালই তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে রাজ্যের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উত্তর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন নবান্নের কাছে যে প্রাথমিক রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে তাতে জানা যাচ্ছে বহু গাছ পড়ে গেছে । রাস্তা ঘরবাড়ি সেতু সহ বহু কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। চূড়ান্ত রিপোর্ট পেতে তিন-চার দিন সময় লাগবে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন। তবে রাজ্য সরকার সাধ্যমত দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজ্যে স্মরণাতীত কালে এমন দুর্যোগ ঘটেনি বলে জানাচ্ছে নবান্ন। আমফানের আঘাত গিয়ে পরে নবান্নেও। ভেঙে যায় নবান্নের ১০৯ নম্বর ঘর। কাঁচের জানালা ভেঙে, ঝড়ো হাওয়া কার্যত তাণ্ডব চালায় একসময়ের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে। ভেঙে যায় কাঠের দরজা। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘নবান্ন প্রায় অর্ধেক ভেঙে গিয়েছে। পুরো বিল্ডিং কাঁপছে। এত বয়সে এমন ঝড় কখনও দেখিনি। নদিবাঁধ, সড়ক, বিদ্যুৎ, জল, সরবরাহ, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতা সহ দক্ষিণ বঙ্গে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তরফে সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার। সারা কলকাতায় গাছ পড়ে রাস্তা আটকে রয়েছে।
আমপান যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, তা আয়লা, ফণী কিংবা বুলবুলের সময়ও রাজ্যে পড়েনি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ দফতর, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সকলেই রাস্তায় নেমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আজ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। নবান্নে ওই বৈঠকে তিনি ঘূর্ণিঝড়ের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here