kolkata bengali news

তিয়াষা গুপ্ত: ঢ্যাংকুড়াকুড় ঢাকের বাদ্যি বেজেছে।
এবার পুজোয় দেশ-দেশান্তরে ঢাকের বোল তুলতে ব্যস্ত ঢাকি সম্রাট গোকুল চন্দ্র দাসের প্রমিলা বাহিনী। সুরুচি সংঘ থেকে বাগবাজার। হলদিয়া থেকে অসম কিংবা তানজেনিয়া- কাঠি হাতে ঢাকের বোল তুলবেন গোকুলের মেয়েরা। সঙ্গীতা, উমা, পূজা-এঁদের এখন দম ফেলার সময় নেই। তালিমে টুকিটাকি ভুল শুধরে দিচ্ছেন গোকুলবাবু। জানালেন, জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত তিনি। বহুদিনের লালিত স্বপ্ন যে ছুঁয়ে ফেলেছেন! ঢাক কাঁধে ঝড় তুলছেন মেয়েরা। উপার্জন করছেন। শিল্পীর সম্মানও পাচ্ছেন।

গোকুলবাবু জানালেন, ঢাক কার্নিভাল দুর্গাপুজোর অঙ্গ। তিনি নিজে পাড়ি দিলেন আমেরিকা। তাঁর দলের অন্যান্য সদস্যরা যাচ্ছেন তানজেনিয়া। ঢাককে আজ বিশ্বজনীন করার পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ঢাকিসম্রাট জানালেন, অনেকেই এখন এই পেশায় উৎসাহিত হচ্ছেন। ঢাকি পরিবারের বাইরে থেকেও ছেলে-মেয়েরা এই পেশায় আসছেন। এই স্বপ্নই তো তিনি এতদিন লালন করেছেন। মেয়েদের জন্য বিশেষ লাইট ওয়েট ঢাকের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, পুরুষদের জন্য তৈরি ঢাক কাঠের বডি, সঙ্গে লেদারের ছাউনি। এর ওজন হয় ১২ থেকে ১৩ কেজি। মহিলারা সাধারণত এত ভারী ঢাক কাঁধে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাজাতে পারেন না। তাঁদের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে স্টিলের বডি, সিন্থেটিকের ছাউনি। এর ওজন ৫ প্রায় কেজি। এতো হালকা ঢাক মহিলাদের বহন করতে সুবিধা হয়।

ঢাকই ছেলেবেলা থেকে গোকুলবাবুর ধ্যানজ্ঞান। বাপ-ঠাকুর্দাও ঢাকি ছিলেন। চার বছর বয়সে গোকুলবাবুর ঢাকে হাতেখড়ি। ছ’বছর বয়সে কাকার কাঁধে চড়ে দুর্গাপুজোয় প্রথম ঢাক বাজান। পড়াশোনা মাধ্যমিক পর্যন্ত। আমেরিকা ছাড়াও তাঁর ঢাকের বোল শুনেছেন বাংলাদেশ, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা-সহ নানা দেশের শ্রোতারা। দেশের এমন কোনও বড় শহর নেই, যেখানে তিনি অনুষ্ঠান করেননি। বাউল গানও গাইতে পারেন। গোড়ার দিকে ঢাকি হিসেবে সে ভাবে সম্মান না-মেলায় অভিমানে কিছুদিন বাজানো বন্ধ রেখে শুধু গান গাইতেন। তার পরে ফের কাঁধে ঢাক তুলে নেন। ঢাক আজ বিশ্বজনীন। সৌজন্যে ঢাকি সম্রাট গোকুল চন্দ্র দাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here