kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: মেয়ে মুসলিম ধর্ম গ্ৰহণ করলেও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত- এই কথা শুনে অবাক পরিবারের লোকজন। শহর কলকাতা থেকে প্রায় ষাট কিলোমিটার দূরে হুগলির ধনিয়াখালির কেশবপুর গ্ৰামের দিনমজুরের বাড়ির মেয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যকলাপের জন‍্য গ্ৰেফতার হয়েছে। খবরের কাগজ মারফত এই খবর জেনে রীতিমতো হতভম্ব এলাকার বাসিন্দারা।

সকালে এই খবর কাগজে বেরিয়েছে। তা প্রতিবেশীরা এসে দেখায় পরিবারের লোকজনকে। তাদের পরিবারের সন্তান বাংলাদেশে থাকলেও এটা কিছুতেই বুঝতে পারছে না, সে কীভাবে জঙ্গি কার্যকালাপে লিপ্ত হল। কিন্তু মেয়ের ছবিটা যখন দেখলেন, তখন বুঝলেন এটা তাদেরই মেয়ে প্রজ্ঞা দেবনাথ। বাবা প্রদীপ দেবনাথ, মা গীতা দেবনাথ তাদের এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে  দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে চলত সংসার। মেয়েটি ছোট বেলায় স্থানীয় কেশবপুর প্রাথমিক বিদ‍্যালয়, পরে ভাণ্ডারহাটি বিএম ইনস্টিটিউশন হয়ে ধনিয়াখালির শরৎ সেন্টেনারি কলেজে কলা বিভাগ নিয়ে পাঠরত ছিল।

কিন্তু ২০১৬সালে ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে ফোনে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বাড়ির লোক থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। কিন্তু তিনমাস পরে ডিসেম্বর মাসে ফোন করে জানায় যে সে বাংলাদেশে আছে। মুসলিম ধর্ম গ্ৰহণ করেছে। বাড়িতে আসতে চায়। কিন্তু বাড়ির লোক আপত্তি জানান। বলেন, যদি সে মুসলিম ধর্ম ত‍্যাগ করে এদেশে ফেরে তবেই তারা তাকে আপন করে নেবেন। কিন্তু বাড়ির লোকের আপত্তি শুনে আর ফোনে কোনও যোগাযোগ করেনি মেয়েটি। পরিবারের দাবি এমনটাই। আর তাদের সেই মেয়ে কিনাই জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত। আজ সকালে পাশের বাড়ির লোক খবরের কাগজ নিয়ে এসে পড়ে তাদের জানায়। যা শুনে হতবাক হয়ে যায় বাড়ির লোক। কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। প্রতিবেশীরা হতবাক।

বাবা প্রদীপ দেবনাথ বলেন, যদি সত‍্যি মেয়ে কখনও জঙ্গি কাজকর্ম বা দেশদ্রোহিতার কাজে যুক্ত থাকে তা হলে তার অবশ‍্যই শাস্তি হওয়া উচিত। যেমন কর্ম তেমন ফল। তবে সে অনেকক্ষণ ফোনে কথা বলত। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলত, কেন বলত তা আমরা জানি না। হয়ত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলত। তাই কিছু বলিনি‌। তবে ছোটবেলা থেকে ছেলের থেকে মেয়েকেই বেশি ভালবেসে আসতাম। সেই মেয়ে কী করে এটা করল?

মা গীতা দেবনাথ চোখের জল মুছতে মুছতে জানান, ছোটবেলা থেকে কোনওদিন এরকম কিছুই বুঝতে পারিনি। ছোটবেলা থেকে প্রঞ্জা পড়াশুনায় ভাল ছিল। ভাল ছবি আকঁত। ও কী করে এসব করতে পারে? এখন মা হিসাবে চাইব ও ভাল হয়ে ফিরে আসুক।

প্রতিবেশী অনুপ কুমার ঘোষ জানান, বাড়ির বাইরে রাস্তার ধারে বসে ফোনে সবসময় তাকে হিন্দিতে কথা বলতে দেখতাম। কিন্তু কখনও ভাবিনি সে এই ধরনের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তবে অনেক সময়ই বাড়িতে থাকত না। কোথাও চলে যেত। এলাকায় কারও সঙ্গে সেভাবে মেলামেশা করত না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here