ডেস্ক: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভারতীয় গণতন্ত্রের শাসক হিসাবে দেখতে চান তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির মন্ত্রীসভার সদস্য ও আরজেডি রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ রাম জেঠমালানি চাইছেন বিজেপিকে পরাস্ত করে যেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে উঠে আসেন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি এবং শত্রুঘ্ন সিনহাকে লেখা এক দীর্ঘায়িত চিঠিতে এমনটাই লিখেছেন বরিষ্ঠ এই আইনজীবী।

ঘটনা হল, খাতায় কলমে বিজেপির সক্রিয় মন্ত্রী ও সদস্য হলেও কাজের বেলায় ঘোর মোদী বিরোধী যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি এবং শত্রুঘ্ন সিনহার মতো নেতারা। নরেন্দ্র মোদীকে পরাস্ত করতে জেঠমালানির সমর্থন চেয়ে তাঁকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এই বিক্ষুব্ধ নেতারা। কিন্তু উত্তরে জেঠমালানি লেখেন, ”আমায় ক্ষমা করবেন, আমি আমার সমর্থন কেবল মমতা ব্যানার্জীকে দিয়েছি এবং তিনি সানন্দে সাহসিকতার সঙ্গে আমায় উত্তর দিয়ে জানিয়েছেন বিজেপি সাম্রাজ্যকে তিনি ধ্বংস করবেন।” মমতাকে সমর্থন জানিয়ে জেঠমালানির চিঠির শেষ লাইনে লেখা ছিল ”এই চিঠির মাধ্যমে আমি জানাতে চাই, বাংলার ওই মহিলা আমার সিলেক্টেড হিরোইন, তাঁকেই ভারতীয় গণতন্ত্রের শাসক হিসাবে দেখতে চাই।”

কিন্তু এক সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ির আইনসভায় থেকেও বিজেপির প্রতি এরম বিরূপ ভাব কেন জেঠমালানির। উত্তরে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ২০১০ সালে কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টে তিনি একাই আইনি লড়াই লড়েছিলেন। দেশের প্রথম সারির আইনজীবী হওয়ার সুবাদে আদালত জনিত কিছু সমস্যার কারণে জেঠমালানির কাছে সাহায্য চান মোদী-শাহরা। সেই সময় জেঠমালানি তাদের সাহায্য করেন, কিন্তু প্রতিদান তো দূরে থাক। সাহায্যের পুরস্কার স্বরূপ দল থেকে বাইরের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর থেকেই মোদী-শাহদের উপর বেজায় চটে জেঠমালানি। তাই বিজেপির পতনের ট্রাম্পকার্ড হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here