মহানগর ওয়েবডেস্ক: ‘আগেও খেয়েছি, আবারও খাব’, ‘সবাই খায়’ সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে গোমূত্র পানকে এভাবেই সওয়াল করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। বিতর্কের সৃষ্টি করে বললেন, যাঁরা গো মাংস খায় তাঁদের মরেও শান্তি নেই। দিলীপ উবাচকে কটাক্ষ করে মানস রঞ্জন ভূঁইয়া বলেন, ‘ওনার চিকিৎসা প্রয়োজন’।

মঙ্গলবার দিলীপ বলেন, রাজ্যে সকলেই গোমূত্র পান করেছেন, জেনে বা না জেনে। পুজোয় প্রসাদ হিসেবে গোমূত্র ব্যবহার হয়েই থাকে। সবাই খায়। আবার খাবে। যারা বিরোধিতা করছেন তাঁরা অর্বাচীন। তিনি নিজেও গোমূত্র খেয়েছেন দাবি করার পাশাপাশি বলেন, মুরারজি দেশাই নিজেও খেতেন। গরুর প্রস্রাবকে কার্যকরী ওষুধ হিসেবেও দাবি করেন বিজেপির দাপুটে নেতা। বলেন, নাম শুনেই অনেক নাক সিঁটকোচ্ছে। তোপ দেগে বলেন, ‘আসলে এঁরা করে এক, বলে আরেক। নাটকবাজি চলছে’। গোমূত্রকে কার্যকরী ওষুধ দাবি করে বলেন, কাওকে খেতে জোর করা হচ্ছে না। বিশ্বাস থাকলে লোকে খাবেই। বিজেপির বিরোধিতা করতেই প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি দিলীপের। বলেন, গরু হিন্দুদের কাছে পবিত্র। তার মূত্র রোগ নাশক। এর পরেই বলেন, গরু রোগ মাংস যাঁরা খান, তাঁদের কী ভাবে মৃত্যু হয় দেখা হোক। গো মাংস খাদকদের মৃত্যুর পরেও শান্তি নেই বলে দাবি বিতর্কিত বিজেপি নেতার। বলেন, গোবর ও গোমূত্রের উপকারিতার বিকল্প নেই।

সম্প্রতি, করোনা ঠেকাতে হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে হয়েছিল গোমূত্র পার্টি। যা নিয়ে বয়ে গিয়েছে বিতর্কের ঝড়। সোমবার ডানকুনিতে এক ব্যক্তি নভেল করোনার প্রতিষেধক হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করেন গোমূত্র ও গোবর। খাইয়েও দেন। পুলিশ এসে গ্রেফতার করেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শেখ মামুদকে। জোড়াসাঁকোতে গেরুয়া শিবিরের উদ্যোগে গো মাতা পুজো করে মূত্র পান করানো হয় করোনা দাওয়াই হিসেবে। পুলিশকেও পান করানো হয় গোমূত্র। যদিও পরে ওই পুলিশকর্মী এফআইআর করে থানায়। দাবি করা হয়, তাঁকে চরণামৃত বলে গোমূত্র খাওয়ানো হয়েছে। অবশ্য অনেকেরই দাবি, তিনি জেনেশুনেই গোমূত্র পান করেছিলেন। পরে পরিস্থিতির চাপে তা অস্বীকার করতে বাধ্য হন।

দিলীপের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে মঙ্গলবার মানস ভূঁইয়া দিলীপের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘ওনার চিকিৎসার প্রয়োজন।’ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘করোনা ঠেকাতে গোমূত্রের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত নয়। বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না হলেও কোনও কিছুকে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা মানে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।’ চিকিৎসক মহলের একাংশের দাবি, গোমূত্র পান করার ফলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

করোনা প্রতিষেধক দাবি করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই শিবির করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ানোর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই শিবির বন্ধ করে দেয়। হুগলির ডানকুনির গোবর-গোমূত্র বিক্রতাকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে করোনা ঠেকাতে গোমূত্র বলে প্রচার চালানো ও পান করানোর গেরুয়া শিবিরের ওপর নজর কেন নেই রাজ্য সরকারের পুলিশের, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here