ডেস্ক: পঞ্চায়েত ইস্যুতে এই মুহূর্তে উত্তাল গোটা রাজ্য। মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হিংসা ও নির্বাচন কমিশনের নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা। এরই মাঝে একবার ফের রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ। রাজ্যের বিরোধীদের উপর তৃণমূলী অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাজ্যসরকারের উন্নয়নকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘বোমা বন্দুক নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে উন্নয়ন। যে উন্নয়নের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না মহিলারাও।’

এদিন সাংবাদিকদের সামনে দিলীপবাবু বলেন, ‘উন্নয়ন নাকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। যে সব জেলা সবদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে সেই জেলাই বিরোধী শূন্য। মানুষ এই সরকারের উন্নয়নের নমুনা দেখতে পাচ্ছে। এই উন্নয়নের প্রভাব যাতে ভোট বাক্সে না পড়ে তার জন্যই বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। না হলে উন্নয়নের ফল ঠিক পেত তৃণমূল।’

এরপরই নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো এবং পরে তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করে তিনি বলেন, বিরোধীরা যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারে তারজন্য সাত দিন ধরে তাবু খাঁটিয়ে বসেছিল তৃণমূল। তাও কিছু কিছু জায়গায় মনোনয়ন দিয়েছে বিরোধীরা। আর যেখানে তৃণমূলের বাহুবলীরা রয়েছে সেখানে ঢুকতেই পারেনি বিরোধীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে সময়সীমা বাড়ানোতে ব্যাপক সমস্যার পড়ে তৃণমূল। ততক্ষণে দুষ্কৃতী ও গুন্ডাবাহিনীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল ওরা। আবার যদি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পক্রিয়া শুরু হয় তবে আবার গুন্ডা ভাড়া করতে হবে ওদের। সেই কারণে নির্বাচন কমিশনারের বাড়িতে যায় ৪ মন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্র সিংয়ের গায়ে হাত তুলতেই শুধু বাকি রেখেছিল ওরা। আর সেই কারনেই বাধ্য হয়ে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন অমরেন্দ্র সিং।’

উল্লেখ্য, মনোনয়ন জমাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্রমাগত হিংসার প্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্ত হয়েছিল বিজেপি। সেই মামলায় রায়ে শীর্ষ আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত রকম ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এবিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। একইসঙ্গে ইচ্ছুক প্রার্থীদের ভোটে লড়ার ব্যবস্থা করার দেওয়া হয় নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে। সেই শুনানির প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে মনোনয়নের জমা দেওয়ার জন্য এক দিন বাড়ায় কমিশন পরে ফের সেই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয় আইনত সমস্যার অজুহাতে। এরপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, যেখানে নির্বাচন কমিশনকে ভোট করানোর জন্য সবরকম ক্ষমতা দিয়েছে সুপ্রিকোর্ট সেখানে কিভাবে আইনের অজুহাত দেয় কমিশন। এরপরই কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here