kolkata news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দিলীপ ঘোষ এবং আজব যুক্তি প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছে। গরুর দুধে সোনা থাকে থেকে শুরু করে মায়ের প্রসাদ খেলেও করোনাভাইরাস হবে না, এই ধরনের মন্তব্য করে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে তাঁর কিছু এসে যায় না তাই প্রমাণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার মাস্ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক আজব তত্ত্ব দিলেন তিনি। বললেন, বাড়িতে পরিস্কার কাপড়ে দড়ি বেঁধে মুখে পরলেই কাজ হয়ে যাবে, করোনা রোখা যাবে! এই তত্ত্ব নিয়ে এখন কৌতূহলের পারদ চড়ছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে ত্রস্ত মানুষ কিন্তু এদিকে মাস্কের আকাল সর্বত্র। সেই প্রসঙ্গে দিলীপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে পরিস্কার কাপড় কেটে দড়ি দিয়ে মুখে বেঁধে নেওয়া উচিত। তাতে কাজ হয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়।’ এই ভাইরাসের সাইজ বড় হওয়ার জন্য নাকি কাপড়েও তা আটকানো যাবে, এমনই মন্তব্য দিলীপের। তাঁর কথায়, চিন থেকে মাস্ক আসতো ভারতে। কিন্তু বর্তমানে চিনের যা পরিস্থিতি, তাতে আমদানি বন্ধ। কতদিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের পক্ষে এত মাস্কের যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাড়িতেই কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করার নিদান দিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় একটি মেলায় করোনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৌতূহলউদ্দিপক মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, ‘যে চিন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে, সেই চিন হচ্ছে সবথেকে বেশি অমানবিক ও প্রকৃতিবিরোধী। এই রকম প্রকৃতিবিরোধী শক্তিকে ভগবান উপযুক্ত শাস্তি দেয়। আজ সেই দেশের মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। এখানে জ্বর হচ্ছে, সর্দি-কাশি হচ্ছে, সবাই মায়ের প্রসাদ খাচ্ছে। আমাদের কিছুই হবে না। মায়ের আশীর্বাদ আছে। আমাদের দেশে এর থেকে বেশি লোক মারা যায় ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ায়। আমরা ভয় পাই না। যারা চাঁদে-সূর্যে যাচ্ছে, তারা ঘরে বন্দি হয়ে আছে। আমরা মায়ের প্রসাদ খাচ্ছি, আমাদের কিছুই হবে না।’

গোটা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে জেরবার। প্রায় চার হাজারের বেশি মানুষ এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন করোনার জেরে। ভারতেও এই ভাইরাস হানা দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেউ মারা না গেলেও আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩। ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) COVID-19-কে ‘প্যান্ডেমিক’ তকমা দিয়েছে। কোনও রোগ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ‘প্যান্ডেমিক’ বলা হয়৷ কোনও রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তিনটি পর্যায়ে তাকে ভাগ করে হু৷ প্রথমে আউটব্রেক, অর্থাত্‍ রোগটি ছড়াচ্ছে৷ এপিডেমিক, অর্থাত্‍ মহামারী৷ এপিডেমিক কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চ বা দেশেও হতে পারে৷ কিন্তু যখন তামাম দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায় সেই রোগ, তখন তা প্যান্ডেমিক অর্থাত্‍ আন্তর্জাতিক মহামারী৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here