মহানগর ওয়েবডেস্ক: একসঙ্গে লড়াইয়ে নামলেন, অথচ ডাক পড়ল একজনের। ওপর জনকে দেওয়া হল বাদ। এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপি যোগের পরই তুমুল হট্টগোল শুরু করলেন শোভন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হল। এদিকে দলে পা রাখতে না রাখতে এহেন অশান্তি থামাতে মরিয়া হয়ে উঠলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ‘শোভন-বৈশাখী তো ডাল আর ভাত। ওরা কী আলাদা?’

ঘটনার শুরু বিজেপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর রাজ্য বিজেপির কর্তারা সিদ্ধান্ত নেন ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে শোভনকে দেওয়া হবে সংবর্ধনা। সেই অনুষ্ঠানে শোভনকে ডাকা হলেও বাদ দেওয়া হয় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ঘটনায় অপমানিত হন বৈশাখী। রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ফোন করে বঙ্গ ব্রিগেডের বিরুদ্ধে তোলেন একাধিক অভিযোগ। খোদ বৈশাখীর তরফে অভিযোগ আসার পর পাল্টা কেন্দ্র থেকে ফোন আসে মুকুল দিলীপদের কাছে। এরপরই নড়ে চড়ে বসেন বঙ্গ নেতারা। শোভনের পাশাপাশি নাম জুড়ে যায় বৈশাখীরও। তবে শুরুতে অপমান হজম করে ওই অনুষ্ঠানে যেতে রাজি না হলেও। পরে দলের ভাবমূর্তির বিষয়টি চিন্তা করে ওই অনুষ্ঠানে যেতে সম্মত হন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘আমি জুতো মেরে গোরু দানে বিশ্বাসী নই। গোটা ঘটনায় খুবই ব্যাথিত হয়েছি। তবে আমার উষ্মা যাতে শোভনের সংবর্ধনায় বিড়ম্বনার কারণ না-হয়, তাই অনুষ্ঠানে যাব। দেখি আগামী দিনে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়।’

এরপরই বৈশাখীকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের তরফে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘শোভন মুখ্য ব্যক্তিত্ব রাজ্যের একজন বিধায়ক। তাই তাঁকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। এখানে বৈশাখীর নাম থাকাটাও উচিত ছিল। তাঁকেও আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’ এরপরই সংবাদমাধ্যমকে চমকে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘শোভন-বৈশাখী তো ডাল আর ভাত। ওরা কী আলাদা?’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here