kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদা: গত লোকসভা ভোটে মালদা জেলার পর থেকে গোটা উত্তরবঙ্গের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে বিজেপি। পুরোটাই তৃণমূলের দখলে থাকা সেই সাম্রাজ্য নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এসেছে গেরুয়া শিবির। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে সেই উত্তরবঙ্গকে এখন থেকেই আবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি। নিজেদের সংগঠনকে মজবুত করতে তারা আসরে নেমে পড়েছে। আর সেই লক্ষ্যে আজ বিকেল চারটে নাগাদ মালদা জেলায় এসে পৌঁছন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ প্রথমে তিনি গৌড় ভবনে ওঠেন৷ পরে পুরাতন মালদার সাহাপুর সারদা শিশু মন্দিরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন৷ সঙ্গে ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল৷ আজ এখানে দলীয় বৈঠক সেরে রাত্রিবাস করে আগামীকাল সকালে হেমতাবাদের উদ্দেশে রওনা দেবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷

মালদায় এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য প্রথম থেকেই কাজ করে আসছেন৷ ধানের সহায়ক মূল্য তিনি ১২৫০ থেকে ১৮৫০ টাকা নিয়ে গিয়েছেন৷ এধরনের ১০টি অর্থকরী ফসলের সহায়ক মূল্য তিনি বাড়িয়েছেন৷ কৃষকদের জন্য বছরে ৬ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে৷ করোনা আবহে প্রধানমন্ত্রী আরও ১ হাজার টাকা ভাতা বাড়িয়েছেন৷ অথচ রাজ্য সরকার এই কৃষকদের জন্য এতদিন কিছুই করেনি৷ কৃষকদের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী সমাজে সবথেকে পিছিয়ে থাকা মানুষদের জন্য নানান প্রকল্প এনেছেন৷ তিনি প্রথম থেকে বলেছিলেন এই সরকার গরিব মানুষের জন্য৷ সেই গরিব মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রী লাগাতার কাজ করেছেন৷ তার পরিণাম সমাজে দেখা যাচ্ছে৷’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের শস্যের দামের দেড়গুণ সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছেন৷ এক কুইন্টাল ধানের উৎপাদন মূল্য ১ হাজার টাকা হয় তবে সেই ধানের মূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়া উচিত৷ এটা সমস্ত অর্থকরী ফসলের জন্য একটা মাপকাটি করা হয়েছে৷ বাংলার কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন না৷ কারণ রাজ্য সরকার চায় না কৃষকরা সমস্ত সুবিধে পান৷ প্রধানমন্ত্রী কৃষকের বছরে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন৷ অনেক রাজ্য নিজেদের কৃষকদের নামের তালিকা পাঠিয়েছে৷ যে সমস্ত রাজ্য তালিকা পাঠিয়েছে, তাদের কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গিয়েছে৷ অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার না কৃষকদের নামের তালিকা দিয়েছে, না ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর৷ সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা বঞ্চিত রয়েছেন৷’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভার্চুয়াল র‍্যালিতে জানিয়েছিলেন, কৃষকদের নামের তালিকা শনিবার পাঠানো হলে সোমবারের মধ্যে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে৷ অথচ এই সরকার সে সব কিছুই করেনি৷ রাজ্য সরকার কৃষকদের এই সুবিধে পাইয়ে দিতে চাইছে না৷ রাজ্য সরকার ভয় করছে, কৃষকরা সাবলম্বী হলে মোদি সরকারকে সমর্থন করবেন৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here