kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু খুন হয়েছিলেন ২০০০ সালের পয়লা এপ্রিল। সেই খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা এখনও অধরা। ওই খুনের ঘটনার পর কেটে গেছে ২০ বছর। বিকাশ বসুর স্ত্রী মঞ্জু বসু দুবারের তৃণমূল বিধায়ক ও হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কিন্তু তা স্বত্বেও খুনের বিচার হয়নি আজও। সোমবার বিকাশ বসুর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসে মঞ্জু বসুকে পাশে নিয়ে বিকাশ বসুর খুনের ঘটনার বিচার চাইবেন বলে প্রকাশ্যে আশ্বাস দিলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। আর এখানেই চাপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ব্যারাকপুর কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। কারণ বিকাশবাবু খুন হওয়ার পর মঞ্জুদেবীই ঘটনার পিছনে মূল চক্রান্তকারী হিসাবে আঙুল তুলেছিলেন অর্জুন সিংয়ের দিকেই। যদিও প্রমাণাভাবে সেই নাম বাদ যায় পুলিশের এফআইআর থেকে। ঘটনাচক্রে সোমবার বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়ার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা অর্জুনের আত্মীয় সুনীল সিং।

সোমবার দীনেশ ত্রিবেদী ইছাপুর স্টোর বাজারে বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকাশ বসুর খুনের ঘটনার বিচার হওয়া দরকার। মঞ্জু বসুর দাবী তার স্বামীর প্রকৃত খুনিরা শাস্তি পাক। আমি মনে করি মঞ্জু বসুর দাবী এমন কিছু বড় নয়। আমি প্রশাসনকে বলব মানুষের মনের কথা। কেউ বিকাশদাকে সকাল বেলায় গুলি করে খুন করে চলে যাবে, সে শাস্তি পাবে না, সেটা হতে পারে না। প্রশাসন তাদের মত করে তদন্ত করে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করবে।’ ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ১০ বছরের বিদায়ী সাংসদকে প্রশ্ন করা হয়, বাম আমলে খুন হলেও ওই খুনের ঘটনার বিচার তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন কালে কেন হল না? এই প্রশ্নের উত্তরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘কি হয়নি, কেন হয়নি, এইসব বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আজকে দুঃখের দিন, তবে দোষীরা শাস্তি পাক এটাই আমি চাই। আগামীদিনে প্রশাসন নিশ্চই এই ঘটনার তদন্ত করবে।’ বিকাশ বসুর মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসে নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘প্রশাসন তাদের মত করে তদন্ত করবে। এই ঘটনার বিচার হোক, সেটা আমিও চাই।’

 

ইছাপুর স্টোরবাজার এলাকায় যে স্থানে তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল, সেই স্থানে কয়েক বছর আগে বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন হয়েছিল। সেই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারও সেই স্থানেই বিকাশ বসুর স্মরণে তার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হল। তবে নোয়াপাড়ার এক সময়ের তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী থেকে, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, এমনকি ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস উপস্থিত থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অনুপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুনীল সিং, উত্তর বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষেরা। এই অনুষ্ঠানে কেন সুনীলবাবু অনুপস্থিত এই প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আমি আসিনি। কাউকে আমন্ত্রন করার মত বিষয় এটা নয়, মন থেকে যে তাগিদ অনুভব করবে সে আসবে। হয়ত কোন কাজে ব্যস্ত আছে, পরে আসতে পারে।’ তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি জানতাম না, বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠান আছে। শরীরটা আমার খারাপ ছিল, তবুও কেউ আমাকে জানালে নিশ্চই যেতাম।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here