মহানগর ওয়েবডেস্ক: বাঙালি জীবনের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। ‘মরিচঝাঁপি’, বাংলা ও বাঙালিদের হৃদয়ে আজও লুকিয়ে রয়েছে কোথাও। দেশভাগ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে বহু বাঙালি হিন্দু শরণার্থী তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। প্রথম সারির উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বাঙালি হিন্দু শরণার্থীরা সহজে কলকাতায় ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য এলাকায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলেও পরবর্তী সারির বিশাল জনসংখ্যার নিম্নবিত্ত শ্রেণীর হিন্দুদের পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেওয়া হয় নি।

বলপূর্বক তাদের পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বার করে দেওয়া হয়। এবার সেই ঘটনার জন্য কারা দায়ী? কী ঘটেছিল সেই সময় সবটাই সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন পরিচালক বৌদ্ধায়ন মুখোপাধ্যায়। ‘তিনকাহন’ ‘ভায়োলিন প্লেয়ার’-এর মতো সিনেমা বানানোর পড়ে এবার মরিচঝাঁপি-এর উপর সিনেমা বানাতে দেখা যাবে তাঁকে। পরিচালক জানিয়েছেন, গত দু বছর ধরে তিনি ও অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয় নিয়ে লিখে চলেছেন, প্রচুর পড়াশোনা করেছেন ও প্রচুর লোকের সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে শুনেছেন সেই নির্মম ঘটনার কথা। মূলত ‘মরিচঝাঁপি’-র যন্ত্রণা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে এই সংকল্প নিয়ে সিনেমা বানাতে চলেছেন বৌদ্ধায়ন।

 

ঠিক যেই সময় গোটা বিশ্ব কিংবা ভারতে রোহিঙ্গা ইস্যু মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আবার ভারতে নাগরিক পঞ্জিকা বিল কিংবা এনআরসি নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে ঠিক তখনই বড়পর্দায় আসছে এই সিনেমা। পরিচালক এও জানিয়েছেন, ‘মরিচঝাঁপি’-র ঘটনা শুধু নিষ্ঠুরতা নয় প্রেমকেও তুলে ধরা হবে। বাংলার জল, হাওয়া, মাটির গন্ধের জন্য প্রেম। সেই প্রেমের টানেই অগুনিত মানুষের বাংলায় ফিরে আসা। মরিচঝাঁপিতে বাসা বাঁধা। এই প্রেম অস্বীকার করে এই ছবি তৈরি সম্ভব নয়। যদিও শ্যুটিং স্পট হিসাবে কোন স্থানে করা হবে সেই বিষয়ে এখনও রেকি চলছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বাংলার পাশাপাশি মুম্বই-এর বেশকিছু তারকাকেও দেখা যাবে এই সিনেমাতে অভিনয় করতে। মুম্বইয়ের সংস্থা ‘লিটিল ল্যাম্বস ফিল্মস’ ও একটি বিদেশী প্রযোজক সংস্থার প্রযোজনায় আসবে ‘মরিচঝাঁপি’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here