রক্তিমা দাস: থার্মাল স্ক্যানিং থেকে মাস্ক বিতরণ সবকিছুতেই দ্বিচারিতা চলল কলকাতা পুরসভায়। করোনা আতঙ্কের আবহে বৃহস্পতিবার থার্মাল স্ক্রিনিং করা হলেও, এই পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল একমাত্র মেয়রের ঘরের সামনেই। মাস্ক বিতরনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা গেল এদিন। মেয়রের ঘরের কর্মীদেরই একমাত্র মাস্ক দেওয়া হয় পুরসভার থেকে। বাকি পুরসভা চত্বর রইল মাস্ক সহ থার্মাল স্ক্যানার মুক্ত।

নিয়ম অনুযায়ী, থার্মাল স্ক্যানার থাকবে পুরসভার সমস্ত গেটের সামনে। তবে এদিন পুরসভার সদরদফতরে মূল ফটকের সামনে দেখা মিলল না কোনও থার্মাল স্ক্যানারের। তবে উপরে উঠে মেয়রের ঘরের সামনে দেখা গেল এক আধিকারিক থার্মাল স্ক্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পরীক্ষা করছেন মেয়র ডেপুটি মেয়রকে। পরে মেয়রের ক্ষেত্রেও থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা চলে। তবে সমস্ত পুরসভার কর্মীদের জন্য সেই পরীক্ষা নয়।

অন্যদিকে, কলকাতাকে করোনা মুক্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে অন্যতম সরকারি দফতরে মাস্ক বিতরণ। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কলকাতা পুরসভার জন্য প্রথম অবস্থায় বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ হাজার মাস্ক। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মঙ্গলবার। কিন্তু এর পরের দুদিন কেটে গেলেও মাস্ক দেওয়া হলনা সমস্ত পুরসভার কর্মীদের। একমাত্র মেয়রের ঘরের কর্মীদের ছাড়া। মাস্ক পাননি ডেপুটি মেয়র এর ঘরের কর্মীরা সহ প্রত্যেক এম এম আই সি ঘরের কর্মীরাও। একইভাবে মাস্ক থেকে ব্রাত্য পুরসভার নিরাপত্তাকর্মীরাও।

পাশাপাশি দ্বিচারিতা দেখা গেল হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ক্ষেত্রেও। পুরসভার গেটের সামনে যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে মেয়র তথা ডেপুটি মেয়র এর ঘরের স্যানিটাইজারের কোয়ালিটির। মেয়র ও ডেপুটি মেয়র থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে যে স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে ভালো কোম্পানির স্যানিটাইজার। অন্যদিকে পুরোসভিয়ার সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে কম দামি স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পুরসভার কর্মীদের।

প্রসঙ্গত, কলকাতায় করনা সতর্কতায় কিছুদিন আগেই নবান্নে জরুরী ভিত্তিতে বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সচেতনতা বৃদ্ধিতে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সব নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে পুরসভা, এমনটাই জানিয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যদিও মেয়রের আশ্বাসই সার বলে এমনটাই মন্তব্য করেন পুরসভার কর্মীরা। এদিনের এই দ্বিচারিতা দৃশ্য দেখা যেতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি নিরাপত্তা কেবল উচ্চপদস্থদের জন্যই, সাধারণ পুরসভার কর্মীরা কি তবে এই নিরাপত্তা থেকে ব্রাত্য?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here