kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠলো দেগঙ্গা থানার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। এই উদাসীনতায় বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় দেগঙ্গা থানার পুলিশ আধিকারিকদের। স্ত্রীকে জোর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে পুত্র-কন্যাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল সাইফুল ইসলাম আবগারি দফতরের এক অধিকারিকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিল স্ত্রী সাবেরা বিবি। সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন বারাসত আদালতের এসিজেএম।

কিন্তু আদালতের নির্দেশ বার বার নানান অজুহাতে অমান্য করেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক চৈতন্য মণ্ডল ও দেগঙ্গা থানার আইসি সুমিত মণ্ডল। ফলে আদালত অবমাননার ধারাবাহিক অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের এই উদাসীনতায় বিচারকের ভর্ৎসনা গিয়ে পড়ে দেগঙ্গা থানার পুলিশ আধিকারিকদের ওপর। এদিকে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের ফিরে পেতে আদালতে ঘুরছেন অসহায় মা সাবেরা বিবি।

জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল বিয়ে হয় মাটিয়া থানার রাজাপুরের সাবেরার সঙ্গে দেগঙ্গা থানার বাসুদেবপুরের বাসিন্দা সাইফুলের। ২০১৩ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। ২০১৬ সালে অন্তঃসত্ত্বা সাবেরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাপের বাড়িতেই তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চলতি বছরের ১৮ জুলাই সাবেরা দুই সন্তানকে নিয়ে বেড়াচাঁপা বাজারে আসেন ডাক্তার দেখাতে। অভিযোগ, তখনই বাবা সাইফুল ইসলাম এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালীকে নিয়ে সাবেরার দুই সন্তানকে অপহরণ করেন। আরও অভিযোগ সাবেরাকে খুনের চেষ্টা করেন তার স্বামী সাইফুল। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে সাবেরাকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

এরপর থেকেই সন্তানদের পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হন আসহায় মা। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও পুলিশ উদাসীন। বিচারক বাচ্চাদের আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিলেও নানান অছিলায় পুলিশ এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তাই আবার বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল দেগঙ্গা থানার পুলিশ আধিকারিকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here