নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: জেলা থেকে সারা বছর অনেক কিছুই রপ্তানি হয় বিশ্বের আনাচেকানাচে। সেই রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে এবার নজর দিল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। কারন রপ্তানিতে জোর এলে বাড়বে উৎপাদনও, আর উৎপাদন বাড়াতে হলে জোর দিতে হবে কর্মসংস্থানে। মানুষ কাজ পেলে উৎপাদন বাড়বে, সেক্ষেত্রে বাড়বে রপ্তানির পরিমাণও। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোন দেশে কি ধরনের জিনিসের চাহিদা রয়েছে আর সেই দেশে সেই সব জিনিস পাঠাতে গেলে কোন কোন ধাপ পার হতে হবে তা জেলার অনেক রপ্তানিকারকই ঠিক মতো জানেন না। তাই তাদের দিশা দিতে এবার রপ্তানি বাণিজ্য নিয়েই বিশেষ এক কর্মশালার আয়োজন করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা শিল্প কেন্দ্র। বুধবার সেই কর্মশালা আয়োজিত হল জেলা শিল্প কেন্দ্রে যাতে অংশগ্রহণ করলেন ৭০জন রপ্তানিকারক।

পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে চাল রপ্তানি হয় সব থেকে বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী চীন, ইতালি-সহ অনেকে দেশেই রপ্তানি হয়। কাঁথাস্টিচ, কাঠের কারুশিল্প, শোলা শিল্প, ডোকরা, টেরাকোটা, গহনাও এক্সপোর্ট হয়। কিন্তু এর বেশির ভাগটাই ব্যক্তিগত ভাবে। জেলা থেকে রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে এই সমস্ত উত্পাদিত দ্রব্য জেলা শিল্পকেন্দ্রের তরফে বিভিন্ন মেলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সরাসরি শিল্পীরা সেখানে গিয়ে সেই সব জিনিস বিক্রি করে আসেন। পাশাপাশি সেখান থেকেই শিল্পীদের কাছে পরে অর্ডার আসে। কিন্তু সে বিষয়ে জেলা শিল্প কেন্দ্রের কাছে কোন তথ্য আসে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই অর্ডার সাপ্লাই দিতে গিয়ে নানান সমস্যার মুখে পড়ছেন শিল্পী থেকে রপ্তানিকারকরা। সেই সব সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যাবে মূলত সেটাই আলোচিত হয় বুধবারের এই কর্মশালায়।

 

পাশাপাশি ওই কর্মশালায় এক্সপোর্টের নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং কীভাবে হয় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক্সপোর্ট করতে গেলে কী কী সার্টিফিকেট নিতে হয়, সেগুলি কীভাবে পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন পণ্যের চাহিদা কোন দেশে বেশি, কোন দেশে দাম বেশি সেগুলি নিয়েও আলোচনা হয় বুধবারের এই কর্মশালায়। অনেকক্ষেত্রে এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে, সেগুলিও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here