ডেস্ক: নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিল তামিলনাড়ুর শাসক-বিরোধী দুপক্ষই। মঙ্গলবার এআইডিএমকে ও ডিএমকে উভয়ই তাদের ইস্তেহার প্রকাশ করে। ওই ইস্তেহারে শাসক ও বিরোধী দুপক্ষই রাজীব হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৭ জেলবন্দীর মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আাসামীরা হল ভি শ্রীহরন ওরফে মুরুগান, টি সুতেন্দ্ররাজা ওরফে সানথাম, এজি পেরারিভালান ওরফে আরিভু, জয়কুমার, রবার্ট পয়াস, পি রবিচন্দ্রন এবং নলিনী।

লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুর বিরোধী দল ডিএমকের জোটসঙ্গী হল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার পর আসন সমঝোতাও হয় কংগ্রেস ও ডিএমকের মধ্যে। একসঙ্গেই এআইডিএমকের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে লড়বে তারা। ফলে এই পরিস্থিতিতে রাহুলের বাবার হত্যাকারীদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডিএমকের ইস্তহার প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এআইএডিএমকে-ও। তাছাড়া, ওই অপরাধীদের মুক্তির বিষয়টি ততটা সহজও নয়।

উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৫(১) ধারায় একজন অপরাধীকে মুক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারে রাজ্য সরকার। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে সেই অপরাধীর মুক্তি। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পর এনিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র। এআইএডিএমকে এই ব্যাপারে উদ্যোগও নিয়েছিল। কেন্দ্রের কাছে আর্জিও জানায় এআইডিএমকে সরকার। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, এটা নজিরবিহীন অপরাধ। এই অপরাধীদের শাখা ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন দেশে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র তখন জানিয়েছিল, বেনজির এই অপরাধে এক মহিলা মানববোমাও ব্যবহার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভারতীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে স্থগিত করতে হয় দেশের সাধারণ নির্বাচন সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।

গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যপালের কাছে ওই অপরাধীদের মুক্তির জন্য আবেদন জানায় তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভা। ১৬১ ধারায় অপরাধীকে মুক্তির অধিকার রাজ্যপালের আছে। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্যপাল এনিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু তার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এরপর বিষয়টি ঝুলে থাকে। আসামীদের মধ্যে পেরারিভিলান ১৯ বছর বয়সে গ্রেফতার হন। এখন তার ৪৭ বছর বয়স। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পেরারিভিলান ১৬১ ধারায় তার সাজা কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। কারণ, তিনি ২৭ বছর জেলে রয়েছেন। যেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০ বছর। এই অপরাধী তার আবেদনে দাবি করেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here