A herd of elephants cross a road that passes through the flooded Kaziranga National Park in the northeastern state of Assam, India, July 12, 2017. Picture taken July 12, 2017. REUTERS/Anuwar Hazarika TPX IMAGES OF THE DAY

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: দিনের পর দিন হাতির হানায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বনদফর। ঝাড়গ্রাম জেলায় চলতি বছরে এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত গত চার মাসে বিভিন্ন রেঞ্জে স্থায়ী হাতি ও দলমা হাতির আক্রমনে মারা গিয়েছে মোট আট জন মহিলা ও পুরুষ। হাতিগুলি কেন আক্রমনাত্মক হয়ে মানুষকে বারবার আক্রমন করছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বনদফতর। এক্ষেত্রে হাতিকে বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত করা, হাতিকে লক্ষ করে ঢিল ছোঁড়া বা হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করা এই বিষয় গুলি উঠে আসছে হাতির আক্রমনাত্মক মেজাজের কারন হিসেবে।

কয়েক বছর আগেও হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা খুবই কম ঘটত। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে দলমা বা স্থায়ী হাতি মানুষকে কাছাকাছি পেলেই আক্রমন করছে। তাই বনদফতর মনে করেছে অত্যাধিক বিরক্ত কারার জন্যই হাতির স্বভাবের পরিবর্তন ঘটছে। বনদফতরের পক্ষ থেকে বারংবার সাধারন মানুষের কাছে আবেদন করা হচ্ছে হাতিকে বিরক্ত না করার জন্য এবং ভোরবেলা ও সন্ধ্যাবেলা জঙ্গলের পথ এড়িয়ে চলার জন্য। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে গত বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি থানার টুলিবর গ্রামের বাসিন্দা নীলকান্ত দোলাই (২৮) বিকেলে কাজ সেরে জঙ্গলের পথ ধরে গ্রামে ফেরার পথে হাতির হামলায় মারা যান। সেই সময় ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে এগারোটি হাতির দল ওই জঙ্গলে ছিল। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ওই এলাকায় অনেক লোক জমেছিল হাতি দেখার জন্য। বনদফতর জানাচ্ছে সেই সময় নীলকান্ত হাতির ছবি তোলার চেষ্টা করছিল। মোবাইলে ফ্ল্যাশ লাইট দেখে দলের একটি হাতি ক্ষেপে গিয়ে তাকে তাড়া করে এবং পা দিয়ে পিষে মেরে দেয়। নীলকান্তকে তখন সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে প্রথমে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ঝাড়গ্রাম সুপারস্পেশালিটি হাসপতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য গত চার মাসে ঝাড়গ্রাম ডিভিশনের বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রাম, জামবনিতে মোট চার জন এবং মেদিনীপুর ডিভিশনের লালগড়ে দুই জন এবং খড়গপুর ডিভিশনের নয়াগ্রামে দুই জন হাতির হানায় মারা যান। গত বুধবার রাতেই এগারোটি দলমা হাতির দল ঝাড়খন্ড এবং বাংলার সীমানার জামবনি ব্লকে সারেঙ্গা এলাকার জঙ্গলে এসে ঘাঁটি গাড়ে। বর্তমানে এই দলটি জামবনি রেঞ্জের সুশনি গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে রয়েছে। যেহেতু বৃহস্পতিবার হতির আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে তাই বনদফতর এখনই হাতি গুলিকে ড্রাইভ করতে চাইছে না। দলটিকে বিশ্রাম দিয়ে কয়েক দিন পরে ড্রাইভ করা হবে বলে জানিয়েছে বনদফতর।

ঝাড়গ্রাম বনদফতরের এডিএফও সমীর মজুমদার বলেন,’মৃতের পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ পাবে। হাতি জঙ্গলে আছে থাকবেও। হাতির দলকে অকারনে বিরক্ত করার জন্যই অঘটন ঘটছে। আমাদের সাধারণ মানুষের প্রতি বিনিত অনুরোধ সাবধানে চলাফেরা করুন। ভোর এবং সন্ধ্যাবেলা জঙ্গলের পথ এড়িয়ে চলুন। আর হাতিকে বিরক্ত করবেন না, হাতির কাছে গিয়ে ছবি তোলায় চেষ্টা করবেন না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here