kolkata bengali news

ডেস্ক: যে কোনও নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া একপ্রকার রীতিই। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুরে এর বদল ঘটছে। না, প্রার্থী ভোট চাইতে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন না তা নয়, প্রার্থীকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বাড়িতে! তবে সব দলের প্রার্থীদের জন্য এই নীতি নয়। জনতার রোষের মুখে পড়ছেন যাদবপুরের বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এলাকার বিভিন্ন জায়গার বাড়়িতে পোস্টার পড়েছে, ‘বাড়িতে গৃহদেবতার পূজা হয়৷ তাই ভোট চাইতে এসে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করবেন না৷ আপনারা না জানি কি অখাদ্য/কুখাদ্য খেয়ে থাকেন’!

তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, হঠাৎ এই পোস্টার কেন? এর উত্তর রয়েছে অতীতে। ২০১৬ সালে গো-হত্যা এবং গো মাংস খাওয়া নিয়ে সরব হয়ে উত্তাল হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি, যার নেপথ্যে অবশ্যই বিজেপি সরকার। তারপরেই বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার নিজেদের জায়গায় গোহত্যা, গোমাংস খাওয়া বন্ধের নির্দেশ দিলে হইচই শুরু হয় গোটা দেশজুড়ে। এই পরিস্থিতিতেই গো মাংস নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন কলকাতার কয়েকজন বুদ্ধিজাবী৷ ধর্মতলার প্রকাশ্য রাস্তায় বিফ পার্টির আয়োজন করে বামপন্থী সংগঠন ভাষা ও চেতনা বিকাশ৷ সেই পার্টিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সিপিএম ঘনিষ্ঠ নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তৃণমূলপন্থী কবি সুবোধ সরকারকে৷ সেই ছবি বেশ ভাইরাল হয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়৷

 

এই গো-মাংস খাওয়ার কথাই হয়তো মনে রেখেছে যাদবপুর। সময় পেরিয়ে গেলেও বিকাশের সেই গো-মাংস খাওয়ার ঘটনা এখনও ভোলেননি মানুষ। সেই রেশই গিয়ে পড়ছে ভোট প্রচারে। এই কারণেই বিভিন্ন বাড়ির দরজায় বা দেওয়ালে পোস্টার পড়েছে ‘কুখাদ্যভোজী সিপিএম প্রার্থী’! বিকাশের সেই সিদ্ধান্ত যে মানুষ একেবারেই সমর্থন করেননি তা এখনও স্পষ্ট। তবে ভোট কি এর প্রভাব পড়বে? অবশেষে কি ৩ বছর আগে নেওয়া নিজের সিদ্ধান্তের কাছেই হেরে যাবেন বিকাশ? এর জন্য অবশ্যই তাকিয়ে থাকতে হবে ২৩ মে-এর দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here